সমুদ্রসৈকতে ভ্রমণ অনেকের কাছেই রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। তবে আবহাওয়া খারাপ হলে এই আনন্দ মুহূর্তেই ঝুঁকিতে পরিণত হতে পারে। বিশেষ করে ঝড় বা ঘূর্ণিঝড়ের সময় সঠিক সতর্কসংকেত না জানলে বিপদের আশঙ্কা বেড়ে যায়। তাই উপকূলীয় এলাকায় ভ্রমণের আগে সতর্কসংকেত ও করণীয় সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখা জরুরি।
বাংলাদেশে সমুদ্রবন্দর ও উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য ১ থেকে ১১ নম্বর পর্যন্ত সতর্কসংকেত চালু রয়েছে। প্রতিটি সংকেতের অর্থ আলাদা এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী করণীয়ও ভিন্ন।
দূরবর্তী সংকেত ১ ও ২
এই পর্যায়ে গভীর সমুদ্রে ঝড় সৃষ্টি হয়েছে বা হতে পারে, তবে উপকূলে প্রভাব পড়ে না। এ সময় আবহাওয়ার আপডেট নিয়মিত অনুসরণ করা জরুরি। অপ্রয়োজনীয় সমুদ্রযাত্রা এড়িয়ে চলা এবং জরুরি নম্বর ও আশ্রয়কেন্দ্র সম্পর্কে ধারণা রাখা ভালো।
স্থানীয় সংকেত ৩ ও ৪
উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এই সময়ে উপকূলে অবস্থান করলে সতর্ক থাকতে হবে। নৌকা বা ট্রলারে থাকলে নিরাপদ স্থানে যেতে হবে। শুকনো খাবার, পানি ও প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রস্তুত রাখা উচিত।
বিপৎসংকেত ৫, ৬ ও ৭
ঝড় বা ঘূর্ণিঝড় সরাসরি আঘাত হানতে পারে। দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে। প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলা, ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ রাখা এবং বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ নিরাপদ রাখা জরুরি। গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র সুরক্ষিত রাখতে হবে।
মহা বিপৎসংকেত ৮, ৯ ও ১০
শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা বা আঘাতের সময়। জলোচ্ছ্বাস ও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি থাকে। এ সময় অবিলম্বে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে হবে। শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থদের আগে সরিয়ে নেওয়া জরুরি। বাইরে না গিয়ে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করতে হবে।
চরম সংকেত ১১
সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি নির্দেশ করে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। এই সময় নিরাপদ আশ্রয়েই অবস্থান করা এবং কোনো অবস্থাতেই বাইরে না যাওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
অতিরিক্ত পরামর্শ
সরকারি সংস্থা ও আবহাওয়া দপ্তরের নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। গুজব এড়িয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য অনুসরণ করা জরুরি। আগে থেকেই আশ্রয়কেন্দ্রের অবস্থান জেনে রাখা নিরাপদ ভ্রমণের অংশ।
সংকেত যত বাড়ে, ঝুঁকিও তত বাড়ে। তাই দেরি না করে আগাম প্রস্তুতি নেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর নিরাপত্তা।