চীনের রাজধানী বেইজিং শুধু নিষিদ্ধ নগরী বা সামার প্যালেসেই সীমাবদ্ধ নয়। শহরের বাইরে অল্প দূরত্বেই ছড়িয়ে আছে প্রাচীন রাজবংশের সমাধি, পাহাড়ঘেরা গ্রাম, ঐতিহাসিক সেতু এবং রোমাঞ্চকর কাচের ভিউ প্ল্যাটফর্ম। যারা নগর জীবনের ব্যস্ততা থেকে কিছুটা বিরতি চান, তাদের জন্য বেইজিংয়ের আশপাশের এসব গন্তব্য হতে পারে আদর্শ ডে ট্রিপ।
মিং সমাধিক্ষেত্রে ইতিহাসের ছোঁয়া
বেইজিং থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে ইউনেস্কো স্বীকৃত মিং টুম্বস চীনের মিং রাজবংশের ১৩ সম্রাটের সমাধিস্থল। তিয়ানশৌ পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত এই এলাকা চীনের সাম্রাজ্যিক ইতিহাস জানার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান।
এখানে চাংলিং, ডিংলিং ও ঝাওলিং সমাধি পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত। বিশেষ করে ডিংলিং সমাধির ভূগর্ভস্থ কক্ষ দর্শনার্থীদের কাছে আলাদা আকর্ষণ।
গ্রেট ওয়ালের ভিন্ন অভিজ্ঞতা
বেইজিং থেকে গ্রেট ওয়ালের বিভিন্ন অংশে সহজেই যাওয়া যায়। মুতিয়ানইউ ও বাদালিং অংশ সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং পর্যটকবান্ধব। এখানে কেবল কার ও চেয়ারলিফট সুবিধাও রয়েছে।
অন্যদিকে অপেক্ষাকৃত নিরিবিলি অভিজ্ঞতা চাইলে জিয়ানকৌ, সিমাতাই বা গুবেইকৌ অংশ বেছে নিতে পারেন। এসব স্থানে ওয়ালের পুরোনো কাঠামো এবং পাহাড়ি ট্রেইল ভ্রমণে আলাদা রোমাঞ্চ যোগ করে।
শিলিনশিয়া গ্লাস প্ল্যাটফর্মে রোমাঞ্চ
পিংগু জেলায় অবস্থিত শিলিনশিয়া গ্লাস ভিউয়িং প্ল্যাটফর্ম বেইজিংয়ের অন্যতম আলোচিত পর্যটন আকর্ষণ। পাহাড়ের কিনারা থেকে ৩২ মিটার বাইরে বেরিয়ে থাকা এই কাচের প্ল্যাটফর্মটি উপত্যকার প্রায় ৪০০ মিটার ওপরে অবস্থান করছে।
স্বচ্ছ মেঝে ও রেলিংয়ের কারণে এটি অনেকের কাছেই রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে। আশপাশের পাহাড়ি দৃশ্যও পর্যটকদের মুগ্ধ করে।
ওয়ানপিং শহরের ঐতিহাসিক সেতু
বেইজিংয়ের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত ওয়ানপিং শহর বিখ্যাত মার্কো পোলো ব্রিজের জন্য পরিচিত। ১১৮৯ সালে নির্মিত এই বহু খিলানবিশিষ্ট সেতুটি ইয়োংডিং নদীর ওপর দাঁড়িয়ে আছে।
সেতুর দুই পাশে রয়েছে শত শত পাথরের খোদাই করা সিংহমূর্তি। ১৯৩৭ সালে এখানেই চীন ও জাপানের সংঘর্ষের মাধ্যমে দ্বিতীয় চীন-জাপান যুদ্ধের সূচনা হয়েছিল।
কুয়ানদিশিয়া গ্রামের শান্ত পরিবেশ
শহরের কোলাহল থেকে দূরে শান্ত পরিবেশ খুঁজলে যেতে পারেন কুয়ানদিশিয়া গ্রামে। প্রায় ৫০০ বছরের পুরোনো পাথরের বাড়ি, সরু গলি ও পাহাড়ঘেরা প্রকৃতি এই গ্রামকে বিশেষ আকর্ষণ দিয়েছে।
মিং ও ছিং আমলের স্থাপত্যশৈলীর অনেক বাড়ি এখন রেস্তোরাঁ ও অতিথিশালায় রূপান্তর করা হয়েছে। ফলে ঐতিহ্য আর গ্রামীণ সৌন্দর্য একসঙ্গে উপভোগ করা যায়।
ভ্রমণ পরিকল্পনায় যা মনে রাখবেন
বেশিরভাগ ডে ট্রিপেই যাতায়াতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে। তাই সকালে বের হওয়া সুবিধাজনক। শীতকালে বেইজিংয়ের আশপাশের পাহাড়ি এলাকায় তীব্র ঠান্ডা থাকে, তাই গরম কাপড় সঙ্গে রাখা জরুরি।