বর্ষা এলেই পদ্মের রঙে বদলে যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার ধর্মনগর কালীবাড়ী পদ্মবিল। ভারতের ত্রিপুরা সীমান্তঘেঁষা প্রায় ১২০ একরের এই জলাভূমিতে আষাঢ় থেকে কার্তিক পর্যন্ত ফুটে থাকে অসংখ্য পদ্ম। ফুলের সৌন্দর্য, বিলের জল আর নৌকায় ঘোরার অভিজ্ঞতা নিতে প্রতিদিনই এখানে আসছেন দূর-দূরান্তের দর্শনার্থীরা। তবে পর্যটকের সংখ্যা বাড়লেও শৌচাগার ও পোশাক পরিবর্তনের ব্যবস্থা না থাকায় ভোগান্তিতে পড়ছেন অনেকে। একই সঙ্গে নির্বিচারে পদ্মফুল ছেঁড়ায় বিলটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষাও চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

স্থানীয়দের কাছে এটি ধর্মনগর কালীবাড়ী পদ্মবিল নামে পরিচিত। বিলের অপর প্রান্ত কসবা উপজেলার গোসাইস্থল পদ্মবিল নামেও পরিচিত। পশ্চিম পাড়ে আখাউড়া ও কসবা এবং পূর্ব দিকে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের মাধবপুর এলাকা।

প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর আষাঢ় মাসে পদ্মফুল ফুটতে শুরু করে এবং কার্তিক পর্যন্ত প্রায় পাঁচ মাস বিলটি পদ্মে ভরে থাকে। শ্রাবণ মাসে সাধারণত ফুলের সমারোহ বেশি দেখা যায়। দুর্গাপূজার আগে পদ্মের চাহিদাও বাড়ে।

নৌকায় পদ্মবিল ঘোরার আকর্ষণ

বিলের মাঝখানে ছোট ডিঙি নৌকায় ঘুরে পদ্মের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন দর্শনার্থীরা। ঢাকা থেকে আখাউড়ায় বেড়াতে আসা জোনায়েদ হোসেন বলেন, স্বজনদের কাছ থেকে পদ্মবিলের কথা জেনে সেখানে যান। বিলের পাড়ে পদ্মের সুবাস তাকে মুগ্ধ করেছে।

স্থানীয় পর্যটক কবীর আহম্মেদ বলেন, প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে পদ্মপ্রেমীরা এখানে আসেন। তবে শৌচাগার ও পোশাক পরিবর্তনের ব্যবস্থা না থাকায় অনেককে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।

পদ্মবিলের পরিবেশগত গুরুত্ব

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মনির হোসেন জানান, পাখি ও প্রাকৃতিক জলধারার মাধ্যমে পদ্মের বীজ ছড়িয়ে পড়তে পারে। আবার মাটির নিচে থাকা কন্দ শুকনো মৌসুমেও টিকে থাকে। পানি ফিরে এলে সেখান থেকে নতুন গাছ জন্ম নেয়।

তার মতে, পদ্ম মাছের আশ্রয়স্থল তৈরিতে ভূমিকা রাখে। পদ্মের বীজ পাখির খাবার হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ। ফলে পদ্মবিল রক্ষা করা জলাভূমির জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্যও জরুরি।

ফুল ছেঁড়া ঠেকাতে নজরদারি

মনিয়ন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহাবুবুল আলম দীপক জানান, সকাল ও বিকেলে শত শত দর্শনার্থী আসেন। নিরাপত্তা ও সৌন্দর্য রক্ষায় স্থানীয় কমিটির পাশাপাশি একজন গ্রাম পুলিশ দায়িত্ব পালন করছেন।

আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপসী রাবেয়া জানান, পদ্মফুল না ছেঁড়ার বিষয়ে সাইনবোর্ড ও ব্যানার দেওয়া হলেও কিছু মানুষ তা সরিয়ে ফেলছেন। তাই গ্রাম পুলিশকে নিয়মিত নজরদারির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দর্শনার্থীদের জন্য ওয়াশ ব্লক ও পোশাক পরিবর্তনকক্ষ নির্মাণে প্রকল্প নেওয়া হয়েছে এবং দরপত্রও সম্পন্ন হয়েছে।

যেভাবে যাবেন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর থেকে পদ্মবিলটি প্রায় ৩৮ কিলোমিটার দূরে। আখাউড়া-কসবা সড়ক ধরে মনিয়ন্দ ইউনিয়ন পরিষদের সামনে দিয়ে টনকি কর্মমঠ এলাকায় যেতে হয়। সেখান থেকে স্থানীয়দের কাছে পথ জেনে যাওয়া যায়। আঁকাবাঁকা পথের কারণে ছোট যানবাহন, বিশেষ করে সিএনজি অটোরিকশা, ব্যবহার সুবিধাজনক।