শহরের ব্যস্ততা ও কোলাহল থেকে অল্প সময়ের জন্য দূরে যেতে চাইলে নেত্রকোনার দুর্গাপুর ও কলমাকান্দার পাঁচগাঁও হতে পারে একসঙ্গে ঘুরে দেখার মতো দুটি গন্তব্য। একদিকে সোমেশ্বরী নদী ও বিজয়পুরের সাদামাটির পাহাড়, অন্যদিকে সীমান্তঘেঁষা চন্দ্রডিঙ্গার সবুজ পাহাড় ও ঝিরিপথ। সরকারি পর্যটন তথ্যেও দুর্গাপুরের বিজয়পুর ও রানীখং মিশনসহ বিভিন্ন স্থানকে দর্শনীয় গন্তব্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুর্গাপুরে পাহাড়-নদীর সৌন্দর্য
দুর্গাপুরের অন্যতম আকর্ষণ বিজয়পুর। সোমেশ্বরী নদী পেরিয়ে সাদামাটির পাহাড় এলাকায় গেলে বদলে যায় চারপাশের দৃশ্য। পাহাড়, জলাশয় ও সবুজ প্রকৃতির সমন্বয়ে তৈরি এই এলাকা প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে বেশ জনপ্রিয়।
এ ছাড়া রানীখং মিশন, বিরিশিরি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক একাডেমি, সীমান্তবর্তী এলাকা ও স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। সরকারি পর্যটন তথ্য অনুযায়ী, বিজয়পুরে যেতে দুর্গাপুর থেকে সোমেশ্বরী নদী পার হয়ে রিকশা বা মোটরসাইকেলে যাওয়া যায়।
পাঁচগাঁওয়ের চন্দ্রডিঙ্গা
দুর্গাপুরের পর যাওয়া যায় কলমাকান্দা উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী পাঁচগাঁওয়ে। এখানকার চন্দ্রডিঙ্গা স্থানীয়ভাবে পাঁচগাঁও টিলা বা কলমাকান্দার পাহাড় নামেও পরিচিত।
পাহাড়ি পথ ধরে এগোলে চারপাশে দেখা যায় সবুজ টিলা, সীমান্ত এলাকার প্রাকৃতিক দৃশ্য ও গ্রামীণ পরিবেশ। বর্ষায় ঝিরিপথ ও ছোট জলপ্রপাতের উপস্থিতি ভ্রমণে বাড়তি আকর্ষণ যোগ করে। স্থানীয়ভাবে চন্দ্রডিঙ্গাকে ঘিরে চাঁদ সওদাগরের নৌকা ডুবে যাওয়ার একটি জনশ্রুতিও প্রচলিত রয়েছে।
কীভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে বাসে নেত্রকোনা হয়ে দুর্গাপুর যাওয়া যায়। নেত্রকোনা থেকে দুর্গাপুরের বিভিন্ন পর্যটনস্থলে স্থানীয় অটোরিকশা, রিকশা বা মোটরসাইকেল ব্যবহার করা যায়। পাঁচগাঁও যেতে নেত্রকোনা থেকে কলমাকান্দা হয়ে স্থানীয় যানবাহনে যেতে হবে। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, কলমাকান্দা থেকে চন্দ্রডিঙ্গা এলাকায় প্রায় ১২ কিলোমিটার পথ মোটরসাইকেল বা ইজিবাইকে যাওয়া যায়।
খরচ ও ভ্রমণ সময়
সাম্প্রতিক ভ্রমণ প্রতিবেদনের হিসাবে, দুর্গাপুরে দুই দিনের সাধারণ ভ্রমণে জনপ্রতি প্রায় ২ হাজার ৭০০ থেকে ৪ হাজার ৮০০ টাকা এবং চন্দ্রডিঙ্গায় এক দিনের ভ্রমণে প্রায় ১ হাজার ৭০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা খরচ হতে পারে। যাতায়াত, স্থানীয় যানবাহন, থাকা ও খাবারের ধরন অনুযায়ী ব্যয় পরিবর্তিত হবে।
বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে প্রকৃতি সবুজ ও সজীব থাকে। তবে পাহাড়ি পথ পিচ্ছিল হতে পারে। তাই ভালো গ্রিপের জুতা, পানি ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সঙ্গে রাখা উচিত। সীমান্ত এলাকায় চলাচলের সময় নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলা এবং কোনোভাবেই সীমান্তরেখা অতিক্রম না করাই জরুরি।