নীল সমুদ্র, নির্জন সৈকত, খাড়া পাহাড় আর ছাতার মতো ছড়িয়ে থাকা অদ্ভুত ড্রাগন ব্লাড গাছ। দৃশ্যগুলো এতটাই ভিন্ন যে সোকোত্রাকে অনেক সময় ‘এলিয়েন দ্বীপ’ বলা হয়। তবে ইয়েমেনের এই দ্বীপপুঞ্জ শুধু দর্শনীয় ভূদৃশ্যের জন্য নয়, পৃথিবীর বিরলতম জীববৈচিত্র্যের অন্যতম আবাস হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ।

আরব সাগর ও এডেন উপসাগরের কাছাকাছি অবস্থিত সোকোত্রা দ্বীপপুঞ্জ ইয়েমেনের অংশ। বিচ্ছিন্ন ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এখানে এমন বহু উদ্ভিদ ও প্রাণী গড়ে উঠেছে, যেগুলো পৃথিবীর অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। ইউনেস্কোর তথ্য অনুযায়ী, সোকোত্রার ৮২৫টি উদ্ভিদ প্রজাতির মধ্যে ৩০৭টি, অর্থাৎ ৩৭ শতাংশ, স্থানীয় বা এন্ডেমিক। সরীসৃপের প্রায় ৯০ শতাংশ এবং স্থলচর শামুকের ৯৫ শতাংশ প্রজাতিও বিশ্বের অন্য কোথাও নেই।

এই অনন্য জীববৈচিত্র্যের স্বীকৃতি হিসেবে ২০০৮ সালে সোকোত্রা দ্বীপপুঞ্জ ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান পায়।

কেন এতটা অদ্ভুত সোকোত্রা?

সোকোত্রার সবচেয়ে পরিচিত প্রাকৃতিক প্রতীক ড্রাগন ব্লাড গাছ। ছাতার মতো বিস্তৃত শাখা-প্রশাখার এই গাছের লালচে রেজিন থেকেই এর এমন নাম। গাছটির স্বতন্ত্র আকৃতি সোকোত্রার ভূদৃশ্যকে আরও বিচিত্র করে তুলেছে।

দ্বীপপুঞ্জে রয়েছে পাহাড়, শুষ্ক ভূমি, গুহা, স্বচ্ছ নীল পানি ও নির্জন সৈকত। প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ, পাহাড়ি ভ্রমণ, ডুবসাঁতার ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য দেখার মতো কার্যক্রমের জন্যও সোকোত্রা পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয়।

সৌন্দর্যের পাশাপাশি বড় নিরাপত্তা ঝুঁকি

সোকোত্রার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পর্যটকদের আকৃষ্ট করলেও বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি বড় বিষয়। অস্ট্রেলিয়ার সরকারি ভ্রমণ পরামর্শে ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত সোকোত্রাসহ ইয়েমেনে ভ্রমণ না করার সতর্কতা বহাল রয়েছে। সেখানে সংঘাত, অপহরণ ও সন্ত্রাসের ঝুঁকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রও সোকোত্রাসহ ইয়েমেনে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিচ্ছে।

২০২৬ সালের জানুয়ারিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে সোকোত্রার বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে প্রায় ৬০০ পর্যটক দ্বীপটিতে আটকা পড়েছিলেন বলে রয়টার্স জানিয়েছে।

পরিবেশগত চাপও বাড়ছে। ইউনেস্কো জানিয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তন, দূষণ, আগ্রাসী বহিরাগত প্রজাতি, অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও প্রাকৃতিক সম্পদের অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে সোকোত্রার বাস্তুতন্ত্র হুমকির মুখে।

তাই ছবিতে যতই ভিনগ্রহের মতো মনে হোক, সোকোত্রা ভ্রমণের ক্ষেত্রে সৌন্দর্যের আগে নিরাপত্তা, সর্বশেষ সরকারি ভ্রমণ সতর্কতা, বৈধ ভিসা এবং বিমান চলাচলের পরিস্থিতি যাচাই করাই জরুরি।