দুই পাথুরে পাহাড়ের মাঝখানে প্রায় ৪০০ মিটার দীর্ঘ স্বচ্ছ জলধারা দেবতাখুম। বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলায় অবস্থিত এই প্রাকৃতিক খুম পাহাড়প্রেমী পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণ। নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে আবারও পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হয় দেবতাখুম।
দেবতাখুমে যেতে হলে প্রথমে বান্দরবান থেকে রোয়াংছড়ি হয়ে কচ্ছপখালী এলাকায় পৌঁছাতে হয়। রোয়াংছড়ি পর্যন্ত সড়কপথে যাতায়াত সহজ। কচ্ছপখালী থেকে দেবতাখুমে পৌঁছাতে কিছুটা পথ হেঁটে যেতে হয়। এ পথে অবশ্যই স্থানীয় গাইড সঙ্গে নেওয়া বাধ্যতামূলক।
দেবতাখুমে যাওয়ার দুটি পথ রয়েছে—সড়কপথ ও ঝিরিপথ। ঝিরিপথটি পর্যটকদের কাছে বেশি জনপ্রিয়। এই পথে উঁচু পাহাড়ের দুই পাশে বয়ে চলা স্বচ্ছ খাল, পাহাড়ি বসতি এবং চারপাশের নীরবতা ভ্রমণকে করে তোলে আলাদা অভিজ্ঞতা।
প্রায় ৪০ মিনিট হাঁটার পর শীলবান্ধা পাড়ায় পৌঁছাতে হয়। এখানেই রয়েছে টিকিট কাউন্টার। জনপ্রতি ২০০ টাকা টিকিটের বিনিময়ে লাইফ জ্যাকেট, নৌকা পারাপার ও বাঁশের ভেলায় ঘোরার সুযোগ দেওয়া হয়। ভেলায় চড়ে খুমের ভেতর ভেসে বেড়ানোই দেবতাখুম ভ্রমণের প্রধান আকর্ষণ।
স্থানীয় প্রশাসন ও দায়িত্বরতদের মতে, খুম খুলে দেওয়ার পর প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পর্যটক এখানে আসছেন। তবে সন্ধ্যার আগেই খুম এলাকা ত্যাগ করার নির্দেশনা রয়েছে।
পর্যটকরা চাইলে দেবতাখুম ঘুরে একই দিনে বান্দরবান ফিরে যেতে পারেন। আবার কচ্ছপখালী বাজার এলাকায় বাঁশ ও কাঠ দিয়ে তৈরি কয়েকটি আবাসিক হোটেলে রাত যাপনের ব্যবস্থাও রয়েছে।
কখন যাবেন
দেবতাখুম সারা বছরই খোলা থাকলেও বর্ষাকালে পানিপ্রবাহ বেশি থাকায় যাত্রা কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়। শীতকালে পানির প্রবাহ কম থাকে এবং খুমের স্বচ্ছতা বেশি দেখা যায়। নভেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সময় দেবতাখুম ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে উপযোগী।
কোথায় থাকবেন
অধিকাংশ পর্যটক বান্দরবান শহরে অবস্থান করেন। তবে যারা দেবতাখুম এলাকায় থাকতে চান, তারা কচ্ছপখালী বাজারে আবাসিক হোটেলে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা পাবেন।
কীভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে বান্দরবান পৌঁছে রোয়াংছড়িগামী বাসে কচ্ছপতলী আর্মি ক্যাম্প পর্যন্ত যেতে হয়। এরপর অটোরিকশা বা রিজার্ভ যানবাহনে কচ্ছপখালী পৌঁছানো যায়। চাইলে বান্দরবান থেকে জিপ বা চান্দের গাড়ি রিজার্ভ করেও সরাসরি যাতায়াত করা সম্ভব।
ভ্রমণ সতর্কতা
কচ্ছপখালী আর্মি ক্যাম্পে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি জমা দিতে হবে
অবশ্যই স্থানীয় গাইড সঙ্গে নিতে হবে
এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক নেই
ট্রেকিংয়ের জন্য রাবার বা প্লাস্টিকের জুতা ব্যবহার করা ভালো
খুমে নামার সময় অবশ্যই লাইফ জ্যাকেট পরতে হবে
সাঁতার না জানলে পানিতে নামা থেকে বিরত থাকতে হবে