ঈদের ছুটি শেষ হলেও থামেনি ভ্রমণের ঢল। পার্বত্য জেলা রাঙামাটি এখনো পর্যটকদের কোলাহলে মুখর। কাপ্তাই হ্রদ থেকে ঝুলন্ত সেতু, সুবলং ঝরনা থেকে সাজেক—সবখানেই চোখে পড়ছে উপচে পড়া ভিড়। বাড়তি চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে আবাসন খাতও। সাজেকে রিসোর্ট-কটেজে খালি কক্ষ না পেয়ে অনেক পর্যটককে ফিরতে হচ্ছে।

সোমবার বিকেলে রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পর্যটকদের ভিড়ে পুরো এলাকা সরগরম। কেউ সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন, কেউ পরিবার-বন্ধুদের নিয়ে সময় কাটাচ্ছেন। নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশের ভ্রাম্যমাণ দল কাজ করছে।

চট্টগ্রামের চান্দগাঁও থেকে আসা তিন বন্ধু ইরফান, আরিফ ও সাহেদ মোটরসাইকেলে রাঙামাটিতে ঘুরতে এসেছেন। তাঁদের ভাষ্য, পাহাড় আর হ্রদের মেলবন্ধন বারবার টানে এখানে। কুমিল্লা থেকে ৪৫ জনের একটি দলও বাসে করে এসে কাপ্তাই হ্রদ, ঝুলন্ত সেতু ও সুবলং ঝরনাসহ বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখেছেন।

বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ঝুলন্ত সেতুতে প্রবেশমূল্য ৩০ টাকা। করপোরেশনের ব্যবস্থাপক আলেক বিকাশ চাকমা জানান, শহরের হোটেল-মোটেলের প্রায় ৮০ শতাংশ কক্ষ আগেই বুকিং হয়ে গেছে। রোববার প্রায় ২ হাজার এবং সোমবার ৪ হাজারের বেশি টিকিট বিক্রি হয়েছে।

পলওয়েল পার্কেও ছিল পর্যটকদের ভিড়। ৫০ টাকা প্রবেশমূল্যের এই পার্কে দোলনা, সুইমিং পুল ও কাপ্তাই হ্রদের দৃশ্য উপভোগে ব্যস্ত ছিলেন দর্শনার্থীরা। পার্কের ব্যবস্থাপক রেজাউল হক জানান, রোববার ৪ হাজার ও সোমবার ২ হাজার ৩০০ টিকিট বিক্রি হয়েছে। দুই দিনে আয় ৩ লাখ টাকার বেশি।

স্থানীয় পর্যটন অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়েছে। রাঙামাটি ট্যুরিস্ট বোট মালিক সমিতির সহসভাপতি রমজান আলী বলেন, প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যটক নৌযান ভাড়া নিয়েছেন। তবে প্রত্যাশার তুলনায় ভাড়া কিছুটা কম হয়েছে।

এদিকে সাজেকের রুইলুই পর্যটনকেন্দ্রে চাপ সবচেয়ে বেশি। রিসোর্ট ও কটেজ মালিক সমিতির সভাপতি সুপর্ণ দেব বর্মণ জানান, ২৮ মার্চ পর্যন্ত শতভাগ বুকিং রয়েছে। কক্ষ না পেয়ে সোমবারই প্রায় সাড়ে ছয় শতাধিক পর্যটক ফিরে গেছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ ছুটি ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে পার্বত্য অঞ্চলে ভ্রমণ চাহিদা বেড়েছে। তবে পর্যটন ব্যবস্থাপনায় আগাম পরিকল্পনা না থাকলে ভোগান্তি বাড়তে পারে।