ঈদের ছুটিতে দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজারে নেমেছে পর্যটকের ঢল। গত ছয় দিনে অন্তত সাত লাখ মানুষ সমুদ্রসৈকত ও আশপাশের দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখেছেন। পর্যটন–সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে এবং আগামী সোমবার পর্যন্ত মোট পর্যটকসংখ্যা ১০ লাখ ছাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

২২ মার্চ থেকে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত টানা ভিড়ে মুখর ছিল পুরো সৈকত এলাকা। পাঁচ শতাধিক হোটেল, রিসোর্ট ও গেস্টহাউস প্রায় পূর্ণ ছিল। ছয় শতাধিক রেস্তোরাঁ, তিন হাজারের বেশি দোকানপাট, পরিবহনসহ পর্যটন–সংশ্লিষ্ট ১৩টি খাতে এই সময়ে প্রায় ৮০০ কোটি টাকার বাণিজ্য হয়েছে।

কক্সবাজার কলাতলী হোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান জানান, ঈদের আগে রোজার মাসে হোটেলে বিশেষ ছাড় থাকলেও এখন তা তুলে নেওয়া হয়েছে। হোটেলগুলোর দৈনিক ধারণক্ষমতা প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজার।

কোথায় ভিড় বেশি

সমুদ্রে স্নান ও সূর্যাস্ত উপভোগের পাশাপাশি পর্যটকেরা ছুটছেন আশপাশের আকর্ষণীয় স্থানগুলোতে। বিশেষ করে ৮৪ কিলোমিটারের কক্সবাজার টেকনাফ মেরিন ড্রাইভে সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা যাচ্ছে।

এ ছাড়া হিমছড়ি ঝরনা, ইনানী ও পাটোয়ারটেকের পাথুরে সৈকত, টেকনাফের মাথিনকূপ, নাফ নদীর তীর, রামুর বৌদ্ধপল্লি, ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক ও মহেশখালীর আদিনাথ মন্দিরে পর্যটকদের উপস্থিতি বাড়ছে। পাহাড়, ঝরনা, সমুদ্র ও সংস্কৃতির বৈচিত্র্য একসঙ্গে উপভোগের সুযোগ থাকায় এসব স্থানে আগ্রহ বেশি।

সৈকতে উপচে পড়া ভিড়

শুক্রবার সকালে সুগন্ধা পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়, এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ৬০ থেকে ৭০ হাজার মানুষের ভিড়। এর মধ্যে প্রায় ৪৫ শতাংশ মানুষ পানিতে নেমে গোসল ও ঢেউয়ের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন। জেট স্কি, বিচ বাইক, ঘোড়ার পিঠে চড়া ও বালুচরে বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগও নিচ্ছেন অনেকে।

পর্যটকদের ভাষায়, কক্সবাজারের আকর্ষণ এর বৈচিত্র্যে। কেউ বারবার আসেন সমুদ্রের টানে, কেউ সূর্যাস্ত দেখতে, আবার কেউ পরিবার নিয়ে আনন্দঘন সময় কাটাতে।

নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা

পর্যটকের চাপ বাড়ার সঙ্গে নিরাপত্তাব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। সৈকতে সি সেফ লাইফগার্ডের ২৭ জন কর্মী কাজ করছেন। গতকাল একজনের মৃত্যু হলেও এর আগে পাঁচ দিন বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি।

ট্যুরিস্ট পুলিশ জানিয়েছে, ছয় দিনে প্রায় ৪০ জন শিশু হারিয়ে গেলেও সবাইকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সৈকত, হোটেল এলাকা ও দর্শনীয় স্থানগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

এদিকে অতিরিক্ত ভাড়া বা খাবারের দাম বাড়ানো ঠেকাতে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে কাজ করছে। হোটেল মালিকদের সংগঠন জানিয়েছে, বর্তমানে প্রায় ৯৮ শতাংশ কক্ষ বুকিং রয়েছে।