ঈদের টানা ছুটিতে দ্বীপ জেলা ভোলায় পর্যটকের ঢল নেমেছে। জেলার বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্র ও নদীপাড় ঘিরে গড়ে ওঠা পর্যটন স্পটগুলো এখন প্রাণচঞ্চল। পরিবার, বন্ধু ও স্বজনদের নিয়ে ভ্রমণপিপাসুরা উপভোগ করছেন প্রকৃতির নির্মল সৌন্দর্য ও নদীকেন্দ্রিক নানা আয়োজন।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বাসস জানায়, ভোলার ৭ উপজেলায় ছড়িয়ে থাকা অন্তত অর্ধশত ব্যক্তিমালিকানাধীন পর্যটন কেন্দ্র ও রিসোর্টে ভিড় করছেন নানা বয়সী মানুষ। ঈদের তৃতীয় দিন থেকেই দর্শনার্থীদের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভোলা সদর, তুলাতুলির ইলিশ বাড়ি, ইলিশা রিসোর্ট, দিঘলদীর তেঁতুলিয়া স্পট এবং চরফ্যাশনের বেতুয়া নদীপাড়ের প্রশান্তি পার্কে উপচে পড়া ভিড়। বিশেষ করে মেঘনা নদীর তীরঘেঁষা স্পটগুলোতে দর্শনার্থীদের আগ্রহ বেশি।

পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রে রয়েছে মেঘনার স্রোত, খোলা আকাশ, শীতল বাতাস এবং নদীকেন্দ্রিক বিনোদন। নৌকা, স্পিডবোট ও ট্রলারে নদী ভ্রমণ, ঘোড়ার পিঠে চড়া এবং বিভিন্ন রাইডে অংশ নিয়ে সময় কাটাচ্ছেন দর্শনার্থীরা।

ঢাকার পল্লবী থেকে আসা হাবিবুর রহমান ও সুমাইয়া দম্পতি জানান, ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে এসে পরিবারের সঙ্গে ঘুরতে বেরিয়েছেন। তুলাতুলির বিভিন্ন স্পটে ঘুরে তারা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। তাদের মতে, প্রতিটি জায়গাই পরিচ্ছন্ন ও উপভোগের মতো।

চরফ্যাশনের বেতুয়া প্রশান্তি পার্কে আসা শিশুদের মধ্যেও দেখা গেছে উচ্ছ্বাস। স্বজন, সিহাব, রাব্বী ও শিশির জানায়, ঘোড়ার গাড়িতে চড়া, নৌকা ভ্রমণ ও খাবার উপভোগ করে তারা দারুণ সময় কাটাচ্ছে।

অন্যদিকে, ইলিশা এলাকার মেঘনা রিসোর্টে আসা কলেজ শিক্ষার্থী লামিয়া, খুশীমনি ও সুহাইমা বলেন, বন্ধুদের সঙ্গে স্পিডবোটে নদী ভ্রমণ ও নদীপাড়ের খাবার তাদের ঈদের আনন্দ বাড়িয়ে দিয়েছে।

ভ্রমণকারীদের অনেকেই মনে করেন, কক্সবাজার বা কুয়াকাটার মতো সমুদ্রসৈকতের বাইরে ভোলার নদীকেন্দ্রিক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও অনন্য। এখানকার পরিবেশ তুলনামূলক নিরিবিলি এবং ঝামেলামুক্ত।

চট্টগ্রাম, খুলনা ও কুমিল্লা থেকে আসা পর্যটক তাহিয়া চৌধুরী ও রিমন সমাদ্দার বলেন, শহরের ব্যস্ততার বাইরে এমন শান্ত পরিবেশে সময় কাটানো বেশ স্বস্তিদায়ক।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও খুশি। তুলাতুলির ইলিশ বাড়ি রিসোর্টের পরিচালক মো. হেলাল গোলদার জানান, আগের বছরের তুলনায় এবারের ঈদে দর্শনার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। বেবীল্যান্ড পার্কের স্বত্বাধিকারী মো. মিজানুর রহমানও জানান, এবার ভালো ব্যবসা হচ্ছে।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ সুপার মো. শহীদুল্লাহ কাওছার জানান, গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন স্পটগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে, যাতে দর্শনার্থীরা নির্বিঘ্নে ঘুরতে পারেন।