ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে পাহাড়ি পর্যটনের জনপ্রিয় গন্তব্য সাজেক ভ্যালিতে দেখা গেছে পর্যটকদের নজিরবিহীন ভিড়। সীমিত পরিবহন ও আবাসন সুবিধার কারণে অনেক ভ্রমণপ্রত্যাশী শেষ পর্যন্ত সাজেক যেতে পারছেন না। ইতোমধ্যে সব রিসোর্টের কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে, ফলে চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঈদের তৃতীয় দিন সোমবার খাগড়াছড়ি থেকে চারশ’র বেশি গাড়ি সাজেকের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। তবে সড়কের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে এসব গাড়িকে বাঘাইহাট মাঠে স্কটের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। এতে পর্যটকদের যাত্রাপথ দীর্ঘায়িত হলেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সাজেকে বর্তমানে ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ১১৮টি রিসোর্ট রয়েছে। এসব রিসোর্টে প্রায় তিন হাজার পর্যটকের রাতযাপনের ব্যবস্থা আছে। কিন্তু ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে আগাম বুকিং পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত পর্যটকদের জন্য জায়গা সংকট দেখা দিয়েছে।

খাগড়াছড়ির লাইনম্যান সৈকত চাকমা জানান, পিকআপ, সিএনজি ও মোটরসাইকেল মিলিয়ে প্রায় সাড়ে তিনশ’ যানবাহন সাজেকে প্রবেশ করেছে। পাশাপাশি অর্ধশত ব্যক্তিগত গাড়িও রয়েছে। তিনি বলেন, গাড়ির স্বল্পতার কারণে অনেক পর্যটক অপেক্ষা করেও সাজেক যেতে পারছেন না। কারণ, সাজেক থেকে তুলনামূলক কম গাড়ি ফিরে আসছে।

অন্যদিকে সাজেকের গাড়ি লাইনম্যান ইয়াছিন আরাফত জানান, সোমবার সকাল থেকেই প্রায় তিনশো গাড়ি সাজেক থেকে খাগড়াছড়ির দিকে বের হয়েছে। গত দুই দিনের তুলনায় এদিন পর্যটকের চাপ সবচেয়ে বেশি ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সাজেক পর্যটন রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি সুপর্ণ দেব বর্মন বলেন, ২২ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত সব রিসোর্টের কক্ষ বুকড রয়েছে। তিনি জানান, অতিরিক্ত পর্যটক এলে আশেপাশের স্থানীয় বসতবাড়িতে থাকার ব্যবস্থা করা হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, গত দেড় মাস ধরে সাজেকে পর্যটকের উপস্থিতি কম ছিল। ঈদের এই ছুটিতে পর্যটকদের আগমনে ব্যবসায়ীরা নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। স্থানীয় অর্থনীতিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সাজেকের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, মেঘে ঢাকা পাহাড় আর নির্মল পরিবেশ প্রতি বছরই পর্যটকদের আকর্ষণ করে। তবে পর্যটক ব্যবস্থাপনা, পরিবহন সংকট ও আবাসন সীমাবদ্ধতা দূর করা গেলে এই সম্ভাবনাময় গন্তব্য আরও বেশি পর্যটককে সেবা দিতে সক্ষম হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।