ঈদের ছুটিতে স্বল্প সময়ে ভিন্ন স্বাদের ভ্রমণ খুঁজছেন? সংস্কৃতি, ইতিহাস আর প্রকৃতির মিশেলে অনন্য এক গন্তব্য হতে পারে কুষ্টিয়া। গড়াই নদীর তীরে গড়ে ওঠা এই জেলা শুধু ঐতিহ্যের ধারকই নয়, বরং বাঙালির সাংস্কৃতিক চেতনার এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। তাই ছুটির এই সময়ে কুষ্টিয়ার উল্লেখযোগ্য কয়েকটি দর্শনীয় স্থানে ঘুরে আসতে পারেন সহজেই।
লালন সাঁইয়ের আখড়া বাড়ি
কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় অবস্থিত লালন আখড়া বাউল সাধক লালন ফকিরের স্মৃতিবিজড়িত স্থান। মাজারকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই আখড়ায় প্রতিবছর দোল পূর্ণিমা ও ১৭ অক্টোবর জন্মোৎসবে বসে বড় মেলা। কুষ্টিয়া শহর থেকে অটোরিকশায় সহজেই পৌঁছানো যায়।
রবীন্দ্রনাথের কুঠিবাড়ি
শিলাইদহে অবস্থিত কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠিবাড়ি ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য অন্যতম আকর্ষণ। এখানে তিনি দীর্ঘ সময় বসবাস করে বহু সাহিত্যকর্ম রচনা করেছেন। ২৫ বৈশাখে রবীন্দ্র জয়ন্তী উপলক্ষে এখানে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ে। বিস্তৃত বাগান, পুকুর আর সংগ্রহশালাসহ পুরো এলাকা সাজানো হয়েছে সুশৃঙ্খলভাবে।
মীর মশাররফ হোসেনের বাস্তুভিটা
লাহিনীপাড়ায় অবস্থিত এই স্মৃতিস্থান বাংলা সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ‘বিষাদ সিন্ধু’র রচয়িতার ব্যবহার্য জিনিসপত্র সংরক্ষিত রয়েছে এখানে। বর্তমানে এখানে স্কুল, লাইব্রেরি ও জাদুঘর গড়ে উঠেছে, যা দর্শনার্থীদের জন্য শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতা দেয়।
ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ
মুঘল স্থাপত্যে নির্মিত এই প্রাচীন মসজিদ কুষ্টিয়ার ঐতিহাসিক নিদর্শন। তিন গম্বুজ ও কারুকাজখচিত নকশা এটিকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। সদর উপজেলার ঝাউদিয়ায় অবস্থিত এই মসজিদ ইতিহাসপ্রেমীদের কাছে বেশ জনপ্রিয়।
কাঙ্গাল হরিনাথের বাস্তুভিটা ও জাদুঘর
বাংলা সাংবাদিকতার পথিকৃত কাঙ্গাল হরিনাথের স্মৃতিবিজড়িত এই স্থান কুমারখালীতে অবস্থিত। তার প্রতিষ্ঠিত ‘গ্রামবার্তা প্রকাশিকা’ পত্রিকার ইতিহাস এখানে তুলে ধরা হয়েছে। পুরনো মুদ্রণযন্ত্রও সংরক্ষিত রয়েছে জাদুঘরে।
রেনউইক বাঁধ
গড়াই নদীর তীরে গড়ে ওঠা এই বাঁধ শহরের কাছেই একটি জনপ্রিয় বিনোদনকেন্দ্র। সবুজ ছায়াঘেরা পরিবেশে বসে সময় কাটানো বা নৌভ্রমণের সুযোগ রয়েছে। বিকেলে এখানে দর্শনার্থীদের ভিড় বেশি থাকে।
ইউটিউব ভিলেজ
খোকসার শিমুলিয়া গ্রাম এখন ‘ইউটিউব ভিলেজ’ নামে পরিচিত। ইউটিউব থেকে আয়ের মাধ্যমে গ্রামটির উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন করা হয়েছে। এখানে তৈরি হয়েছে আকর্ষণীয় পার্ক, যা তরুণ পর্যটকদের কাছে নতুন অভিজ্ঞতা এনে দেয়।