আসন্ন ঈদুল ফিতরের টানা ছুটিকে ঘিরে দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে বাড়ছে ভ্রমণ পরিকল্পনা। ইতোমধ্যে কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি ও কুয়াকাটার হোটেল-রিসোর্টগুলোতে অগ্রিম বুকিং দ্রুত বাড়ছে। পর্যটনসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘ ছুটি ও অনুকূল পরিস্থিতির কারণে এবার পর্যটকের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় আরও বেশি হতে পারে।
পর্যটন ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারে ইতোমধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ হোটেল কক্ষ অগ্রিম বুক হয়ে গেছে। পার্বত্য জেলা বান্দরবান ও রাঙামাটিতে এই হার ৭০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত। পটুয়াখালীর কুয়াকাটায়ও প্রায় অর্ধেক কক্ষ বুক হয়েছে।
কক্সবাজারে পর্যটকের চাপের প্রস্তুতি
কক্সবাজারের কলাতলী এলাকার সাততলা রেইন ভিউ রিসোর্টে রয়েছে ৫১টি কক্ষ। কর্মচারীরা জানান, ঈদের পরদিন থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত প্রায় অর্ধেক কক্ষ অগ্রিম বুক হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে বাকি কক্ষও পূর্ণ হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
একই এলাকার ওয়েল পার্ক হোটেলে রয়েছে ৭৩টি কক্ষ। হোটেলটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ইউনুস জানান, ঈদের পরদিন থেকে প্রায় ৬০ শতাংশ কক্ষ বুক হয়ে গেছে।
এ ছাড়া সিগাল, সায়মন বিচ রিসোর্ট, রামাদা, ওশান প্যারাডাইস, বেওয়াচ রিসোর্ট ও রয়্যাল টিউলিপসহ শহরের বড় হোটেলগুলোতেও বুকিং বাড়ছে।
হোটেল-মোটেল মালিকদের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ঈদুল ফিতরে প্রায় ৯ লাখ ৭০ হাজার পর্যটক কক্সবাজার ভ্রমণ করেছিলেন। এবার সেই সংখ্যা ১১ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শহরের পাঁচ শতাধিক হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজে দৈনিক প্রায় ১ লাখ ৮৭ হাজার পর্যটক থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। পর্যটন খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ঈদের ছুটিতে এই অঞ্চলে প্রায় ৮০০ কোটি টাকার ব্যবসা হতে পারে।
বান্দরবানে বুকিং প্রায় পূর্ণ
বান্দরবান জেলা শহর, রুমা ও থানচি উপজেলায় মোট ৭৩টি হোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে। লামা ও আলীকদম এলাকায় আরও ৫২টি রিসোর্ট, হোটেল ও কটেজ আছে।
পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ নীলগিরি, কেওক্রাডং, বগা লেক, নাফাখুম, নীলাচল, দেবতাখুম, চিম্বুক, মেঘলা পর্যটনকেন্দ্র ও শৈলপ্রপাত ঝর্ণা। এছাড়া স্বর্ণমন্দির ও ডিম পাহাড়ও জনপ্রিয় গন্তব্য।
বান্দরবান হোটেল রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন বলেন, ইতোমধ্যে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ কক্ষ অগ্রিম বুক হয়েছে। পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে ঈদের ছুটিতে লাখো পর্যটক আসবেন।
সাজেকে বাড়ছে পর্যটকের আগ্রহ
রাঙামাটির সাজেকসহ বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে ১৮৯টি রিসোর্ট, কটেজ ও হোটেল। এর মধ্যে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ কক্ষ ইতোমধ্যে বুক হয়েছে।
সাজেক কটেজ-রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি সুপর্ণ দেববর্মণ জানান, ২২ মার্চ থেকে টানা আট দিনের জন্য অনেক কটেজেই রুম পাওয়া যাচ্ছে না। দীর্ঘ ছুটির কারণে গত বছরের তুলনায় পর্যটকের সংখ্যা দ্বিগুণ হতে পারে।
কুয়াকাটাতেও বাড়ছে বুকিং
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় রয়েছে প্রায় ২২০টি আবাসিক হোটেল। এসব হোটেলে দৈনিক প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার পর্যটক থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। ঈদের ছুটিতে প্রতিদিন এক লাখের বেশি পর্যটক সমুদ্রসৈকতে আসতে পারেন বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
হোটেল ডি মোর-এর ব্যবস্থাপক জয়নুল আবেদীন জুয়েল জানান, ঈদকে সামনে রেখে বুকিংয়ের ফোন বাড়ছে। ইতোমধ্যে ঈদ-পরবর্তী কয়েক দিনের জন্য প্রায় ৪০ শতাংশ কক্ষ বুক হয়ে গেছে।
প্রশাসনের নজরদারির আশ্বাস
পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সেবার মান নিশ্চিত করতে প্রশাসনও প্রস্তুতি নিচ্ছে। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান, হোটেল ভাড়া বা খাবারের দাম অতিরিক্ত নেওয়া হচ্ছে কি না তা তদারকিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে থাকবে। কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।