পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি এলেই দেশের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে ভিড় বাড়ে। উত্তরাঞ্চলে সেই তালিকায় অন্যতম আকর্ষণ তিস্তা ব্যারাজ। ঈদের নামাজ শেষে পরিবার ও স্বজনদের নিয়ে অনেকেই ছুটে যান নদীঘেরা এই দর্শনীয় স্থানে। লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলার সংযোগস্থলে অবস্থিত তিস্তা ব্যারাজে ঈদের দিনে হাজারো মানুষের সমাগম ঘটে।
তিস্তা ব্যারাজ দেশের অন্যতম বৃহৎ সেচ প্রকল্প। একই সঙ্গে এটি উত্তরাঞ্চলের একটি জনপ্রিয় ভ্রমণস্থল হিসেবেও পরিচিত। নদীর বিস্তৃত জলরাশি, পাথর বাঁধানো তীর, সেচ খাল এবং চারপাশের সবুজ বনায়ন মিলিয়ে এখানে তৈরি হয়েছে মনোরম পরিবেশ। ঈদের ছুটিতে এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসেন।
১৯৯০ সালে তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত এই ব্যারাজ মূলত সেচ ও পানি নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি পর্যটকদের কাছেও আকর্ষণীয় জায়গা হয়ে ওঠে। নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে বিস্তীর্ণ বালুচর আর স্লুইস গেটের দৃশ্য অনেককে মুগ্ধ করে।
মার্চের শেষ দিকে ঈদের সময় নদীতে সাধারণত পানি কিছুটা কম থাকে। তবে শুষ্ক মৌসুমেও নদীর বালুচর, জলরাশি ও ব্যারাজের স্থাপনা মিলিয়ে তৈরি হয় ভিন্ন রকম সৌন্দর্য। ভোরের দিকে আবহাওয়ায় হালকা শীতের আমেজ থাকে। এ সময় এলাকাটিতে অতিথি পাখিও দেখা যায়।
তিস্তা ব্যারাজে যাওয়ার জন্য রংপুর থেকে নীলফামারীর ডিমলা পর্যন্ত বাস যোগাযোগ রয়েছে। রংপুর থেকে বাসে পাগলাপীর হয়ে জলঢাকা উপজেলায় পৌঁছানো যায়। সেখান থেকে সরাসরি ডিমলার চাপানি বাজারে নামতে হয়। চাপানি বাজার থেকে তিস্তা ব্যারাজের দূরত্ব প্রায় তিন কিলোমিটার।
এ ছাড়া জলঢাকা উপজেলার আবু সাঈদ চত্বর থেকে সিএনজি নিয়ে সরাসরি ব্যারাজ এলাকায় যাওয়া যায়। লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা উপজেলা হয়ে দোয়ানী বাজার দিয়েও তিস্তা ব্যারাজে পৌঁছানো সম্ভব।
রংপুর বিভাগের বাইরের পর্যটকেরা নীলফামারীর সৈয়দপুরে বিমান, ট্রেন বা সড়কপথে এসে সেখান থেকে নীলফামারী সদর হয়ে জলঢাকা উপজেলার দিকে যেতে পারেন। সেখান থেকে বাস বা সিএনজিতে তিস্তা ব্যারাজে পৌঁছানো যায়।
ঈদকে ঘিরে ব্যারাজ এলাকার আশপাশে অস্থায়ী খাবারের দোকান বসে। এসব দোকানে ভাত, তরকারি, ডাল, দেশি মাছ, ভাজি, চা, নাস্তা এবং ঠান্ডা পানীয় পাওয়া যায়। পাশাপাশি পিঠা, ভাজাপোড়া ও ফাস্টফুডও বিক্রি হয়। তবে উন্নতমানের রেস্টুরেন্ট বা পরিবার নিয়ে বসে খাওয়ার মতো পরিচ্ছন্ন পরিবেশের অভাব রয়েছে।
তিস্তা ব্যারাজে বিকেল থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়টি সবচেয়ে আকর্ষণীয়। নদীর পাড়, স্লুইস গেট এবং ব্যারাজের ওপর দাঁড়িয়ে অনেকেই ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। এখানে ভ্রাম্যমাণ ফটোগ্রাফারও দেখা যায়।
ঈদের সময় দর্শনার্থীর চাপ বাড়লে যানজট ও ভিড়ের পরিস্থিতি তৈরি হয়। এ সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা টহল দেন এবং দর্শনার্থীদের সতর্ক থাকতে বলেন। তবে পর্যাপ্ত শৌচাগার সুবিধা না থাকায় অনেক সময় দর্শনার্থীদের কিছুটা ভোগান্তিতে পড়তে হয়।