দুর্বল ইয়েন আর কোভিড-পরবর্তী বিশ্ব ভ্রমণের জোয়ারে ভর করে পর্যটন খাতে ইতিহাস গড়েছে জাপান। ২০২৫ সালে প্রথমবারের মতো দেশটিতে ভ্রমণকারী বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা ৪ কোটি ছাড়িয়েছে, যা জাপানের পর্যটন ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেকর্ড।
জাপানের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মোট ৪ কোটি ২৭ লাখ বিদেশি পর্যটক দেশটি ভ্রমণ করেছেন। সীমান্ত পুরোপুরি খুলে দেওয়া, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সংখ্যা বৃদ্ধি এবং ইয়েনের মান দীর্ঘদিন দুর্বল থাকায় জাপান বিদেশিদের জন্য তুলনামূলক সাশ্রয়ী গন্তব্যে পরিণত হওয়ায় এই প্রবৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
করোনা মহামারির সময় জাপানের পর্যটন খাত সবচেয়ে বড় ধাক্কা খায়। দীর্ঘ সময় আন্তর্জাতিক ভ্রমণ বন্ধ থাকায় বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা রেকর্ড পরিমাণ কমে যায়। তবে ২০২৪ সাল থেকেই খাতটি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে। ওই বছর ৩ কোটি ৬৮ লাখের বেশি বিদেশি পর্যটক জাপান ভ্রমণ করেন, যা মহামারির আগের সব রেকর্ড ভেঙে দেয়। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করলো দেশটি।
দুর্বল ইয়েনের কারণে হোটেল, খাবার, কেনাকাটা ও পরিবহন খরচ তুলনামূলক কম হওয়ায় ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পর্যটকদের আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। টোকিও, ওসাকা, কিয়োতো ও হোক্কাইডোর মতো জনপ্রিয় শহরগুলোতে পর্যটকের চাপ চোখে পড়ার মতো।
তবে এই ইতিবাচক চিত্রের মধ্যেও একটি উদ্বেগজনক দিক রয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে চীন থেকে আগত পর্যটকের সংখ্যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৪৫ শতাংশ কমেছে। চীন জাপানের অন্যতম প্রধান পর্যটন বাজার হওয়ায় বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে সরকার।
চীনা পর্যটকের সংখ্যা কমার পেছনের কারণ খতিয়ে দেখতে কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদার, বিশেষ প্রচারণা এবং নীতিগত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, ভবিষ্যতে সব অঞ্চল থেকেই পর্যটকের আগমন টেকসইভাবে বাড়ানো।