চা বাগানের সবুজ ঢেউ, হাওর-বিলের নীরব জলরাশি আর পাহাড়ি টিলার মায়াবী ছোঁয়ায় প্রকৃতির এক অনন্য জনপদ মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল। দেশের সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হওয়া এই অঞ্চল শীতকালে রেকর্ড করে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। বর্ষা কিংবা শীত, যে কোনো মৌসুমেই প্রকৃতির রূপ দেখতে দেশ-বিদেশের ভ্রমণপিপাসুরা ছুটে আসেন শ্রীমঙ্গলে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা জুড়ে ছড়িয়ে আছে ছোট-বড় ৪২টি চা বাগান। উঁচু-নিচু টিলা, সমতল ভূমি আর সবুজ চায়ের সারি মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এক অপূর্ব প্রাকৃতিক দৃশ্য। এই অঞ্চলে রয়েছে নানা প্রজাতির পশু-পাখি ও বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাস।
হাইল হাওর ও বাইক্কা বিল
শ্রীমঙ্গলের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র হাইল হাওর। এটি দেশের বৃহত্তম জলাভূমিগুলোর একটি। হাওরের ভেতরে অবস্থিত বাইক্কা বিল পাখিপ্রেমীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ। শীত মৌসুমে এখানে শতরঙা অতিথি পাখির কোলাহল পর্যটকদের মুগ্ধ করে।
ভাস্কর্য ও জাদুঘর
শ্রীমঙ্গলের প্রবেশপথে স্থাপিত চা-কন্যার ভাস্কর্য চা শিল্পের ঐতিহ্যের প্রতীক। এ ছাড়া বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট ও চা জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে এ অঞ্চলের শত বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য।
দার্জিলিং টিলা
দৃষ্টিনন্দন চা বাগানগুলোর মধ্যে দার্জিলিং টিলা অন্যতম। চারপাশের সবুজ টিলা ও চায়ের সারি শ্রীমঙ্গলের সৌন্দর্যকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
বধ্যভূমি ও ডিনস্টন সিমেট্রি
মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণে নির্মিত বধ্যভূমি পার্কটি স্থানীয়দের পাশাপাশি পর্যটকদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ স্থান। ফিনলে টি কোম্পানির ডিনস্টন চা বাগানে অবস্থিত শতবর্ষী ডিনস্টন সিমেট্রিতে রয়েছে ৪৬টি বিদেশি কবর, যা ইতিহাসপ্রেমীদের আগ্রহ বাড়ায়।
নীলকণ্ঠ টি কেবিন ও চিড়িয়াখানা
শ্রীমঙ্গলে এলে নীলকণ্ঠ টি কেবিনে সাত রঙের চা না খেলে ভ্রমণ অপূর্ণই থেকে যায়। পাশাপাশি ব্যক্তিমালিকানাধীন সীতেশ বাবুর চিড়িয়াখানায় বিভিন্ন প্রজাতির পশু-পাখি দর্শনার্থীদের বাড়তি আনন্দ দেয়।
এ ছাড়া গরম টিলা, রাবার বাগান, মণিপুরীপাড়া, সবুজ চা বাগানঘেরা রিসোর্ট ও প্রাকৃতিক পরিবেশ শ্রীমঙ্গলকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে।
হোটেল ও রিসোর্ট
শীত ও বর্ষা মৌসুমে শ্রীমঙ্গলে পর্যটকের সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। পর্যটকদের জন্য এখানে গড়ে উঠেছে শতাধিক হোটেল ও রিসোর্ট। রাধানগর গ্রামে সবচেয়ে বেশি রিসোর্ট অবস্থিত। বাঁশ, ছন ও মাটির নান্দনিক কটেজ পর্যটকদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে। একরাতের থাকার খরচ ন্যূনতম ১ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। তবে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যেই ভালো মানের কটেজ পাওয়া যায়।
যেভাবে যাবেন
দেশের যেকোনো স্থান থেকে বাসে মৌলভীবাজার হয়ে শ্রীমঙ্গল পৌঁছানো যায়। ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে ট্রেনে শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশনে নেমে সহজেই সিএনজি বা লোকাল বাসে গন্তব্যে যাওয়া সম্ভব।