ইতিহাস, ঐতিহ্য আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক নীরব সাক্ষী টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সাগরদিঘি। একসময় যে দিঘিকে ঘিরে গড়ে উঠেছিল জনপদ, ধর্মীয় চর্চা ও সামাজিক জীবন, আজ সেই সাগরদিঘিই অযত্ন আর অব্যবস্থাপনায় হারাচ্ছে তার নিজস্ব জৌলুশ। প্রশাসনিক তদারকির অভাব ও অবৈধ কর্মকাণ্ডে ধীরে ধীরে সংকটাপন্ন হয়ে পড়ছে এই ঐতিহাসিক জলাশয়।
উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার পূর্বে পাহাড়ি জনপদ লোহানীতে অবস্থিত সাগরদিঘি। পাল বংশের শাসনামলে রাজা সাগর পাল পানির সংকট নিরসনে প্রায় ৩৬ একর আয়তনের এই দিঘিটি খনন করেন। তার নাম অনুসারেই দিঘিটির নামকরণ হয় সাগরদিঘি। পরবর্তী সময়ে এলাকাটিও সেই নামেই পরিচিতি পায়।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে সাগরদিঘি একটি গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান। প্রতিবছর বারুণী স্নান উপলক্ষে হাজারো পুণ্যার্থীর সমাগম ঘটে এখানে। কিন্তু বর্তমানে দিঘির পানির মান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পুণ্যার্থীদের ভোগান্তি বাড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দিঘিটি ইজারা দিয়ে মাছ চাষের নামে পোল্ট্রির বর্জ্য ও বিভিন্ন কেমিক্যাল ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে দিঘির পানির স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে, তলদেশ ভরাট হয়ে যাচ্ছে।
একসময় দিঘির চারপাশে ছিল সবুজের সমারোহ। স্বচ্ছ পানির ঢেউ আর শান্ত পরিবেশে প্রকৃতিপ্রেমীদের ভিড় জমত। আজ দিঘির পাড় দখল করে গড়ে উঠেছে স্থাপনা ও অস্থায়ী বাজার। সংস্কারের অভাবে সৌন্দর্য হারাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী এই জলাশয়।
সাগরদিঘি কলেজের অধ্যক্ষ মো. নাছির উদ্দিন বলেন, সাগরদিঘিকে কেন্দ্র করেই এ অঞ্চলে প্রাচীন সভ্যতা গড়ে ওঠে। ঐতিহ্য রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। দিঘির পাড়ে অবস্থিত কালীমন্দিরের এক পুণ্যার্থী জানান, পবিত্র এই দিঘি ইজারা না দিয়ে সংরক্ষণের দাবি জানাচ্ছেন তারা।
ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু সাঈদ জানান, সাগরদিঘিকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে পশ্চিম পাড়ে রেস্ট হাউস ও বিনোদন কেন্দ্রের কাজ চলছে। পরিকল্পিত সংস্কারের মাধ্যমে দিঘিটির ঐতিহ্য ও পর্যটন সম্ভাবনা ফিরিয়ে আনার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।