দিনাজপুরের প্রান্তরে এখন এক অন্য রঙের উৎসব। সবুজ মাঠের বুক জুড়ে ফুটে থাকা হাজারো সূর্যমুখী যেন সূর্যের আলোকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে। কৃষকের পরিশ্রমে গড়ে ওঠা এই সোনালি ক্ষেত এখন শুধু আবাদি জমি নয়, পরিণত হয়েছে দর্শনার্থীদের নতুন আকর্ষণে।

দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলার মঙ্গলপুর ইউনিয়নের গরুল গ্রামে বিস্তীর্ণ জমিতে ফুটেছে সূর্যমুখী। ভোরের আলো ফুটতেই ফুলগুলো সূর্যের দিকে মুখ তুলে দাঁড়িয়ে থাকে। হালকা বাতাসে দোল খাওয়া সেই দৃশ্য পথচারীকেও থমকে দাঁড়াতে বাধ্য করে।

স্থানীয় কৃষক রবিউল ইসলাম এবার এক বিঘা জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করেছেন। গত মৌসুমে পরীক্ষামূলক আবাদে ভালো ফলন পাওয়ার পর তিনি এবার চাষের পরিসর বাড়ান। তার সফলতা দেখে আশপাশের কৃষকেরাও আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

উপজেলা কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে বিরল উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে প্রায় চার হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ হয়েছে। ভোজ্য তেলের চাহিদা মেটাতে দেশে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই চাষে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ফুলের সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন নানা বয়সী মানুষ। কেউ পরিবার নিয়ে সময় কাটাতে আসছেন, কেউ ছবি তুলছেন স্মৃতির জন্য। দর্শনার্থী সুমি বেগম বলেন, সোনালি ফুলের বিস্তীর্ণ ক্ষেত দেখে তিনি মুগ্ধ হয়েছেন। তার ভাষায়, প্রতিটি কোণই যেন ছবি তোলার উপযোগী।

আরেক দর্শনার্থী বিউটি আক্তার জানান, পরিবারের সঙ্গে এমন প্রাকৃতিক পরিবেশে সময় কাটানো সত্যিই আনন্দের। শহরের কোলাহল থেকে দূরে এই ক্ষেত এখন অনেকের কাছে স্বস্তির জায়গা হয়ে উঠেছে।

কৃষক রবিউল ইসলাম জানান, সূর্যমুখীর ফলন ভালো হলে লাভের সম্ভাবনাও বেশি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে তিনি আশাবাদী। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা পাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রুম্মান আক্তার বলেন, ভোজ্য তেলের আমদানি নির্ভরতা কমাতে সরকার কৃষকদের প্রণোদনা দিচ্ছে। আধুনিক পদ্ধতিতে আবাদ বাড়াতে পারলে সূর্যমুখী এই অঞ্চলের সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসল হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে পারে।

স্থানীয়দের মতে, কৃষিভিত্তিক এই উদ্যোগ সঠিক পরিকল্পনায় এগোলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। একই সঙ্গে এমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ঘিরে গড়ে উঠতে পারে ছোট পরিসরের গ্রামীণ পর্যটনও।