বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ ঘিরে নিরাপত্তা, পরিবেশ সুরক্ষা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে হাঁটছে নেপাল। নতুন পর্যটন আইন পাসের মাধ্যমে অভিজ্ঞ পর্বতারোহীদের অগ্রাধিকার দিয়ে এভারেস্ট অভিযানে কঠোর শর্ত আরোপের উদ্যোগ নিয়েছে দেশটি। লক্ষ্য একটাই। দুর্ঘটনা কমানো, পরিবেশের চাপ হ্রাস করা এবং অভিযানের মান উন্নত করা।

সম্প্রতি দেশের উচ্চকক্ষ নতুন আইনটি অনুমোদন করেছে। এখন এটি নিম্নকক্ষে পর্যালোচনার অপেক্ষায় রয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদন মিললে বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট অভিযানে অংশ নেওয়ার নিয়মে বড় পরিবর্তন আসবে।

অভিজ্ঞতা ছাড়া আর নয়

নতুন আইনে বলা হয়েছে, এভারেস্টে ওঠার অনুমতি পেতে হলে আগে নেপালের অন্তত সাত হাজার মিটার উচ্চতার একটি শৃঙ্গে সফলভাবে আরোহণের প্রমাণ দেখাতে হবে। অর্থাৎ শুধুমাত্র অর্থ খরচ করলেই আর অনুমতি মিলবে না। শারীরিক সক্ষমতা, উচ্চতাজনিত অভিজ্ঞতা এবং প্রস্তুতির যাচাই বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ মনে করছে, অনভিজ্ঞ আরোহীদের কারণেই অনেক দুর্ঘটনা ঘটে এবং শৃঙ্গের উপরের অংশে ভয়াবহ ভিড় তৈরি হয়। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে গিয়ে অক্সিজেনের স্বল্পতা, আকস্মিক আবহাওয়া পরিবর্তন এবং শারীরিক দুর্বলতা বড় ঝুঁকি তৈরি করে।

ভিড় কমানোই প্রধান লক্ষ্য

প্রতি বছর এভারেস্টে আরোহীর সংখ্যা বাড়ছে। শীর্ষের কাছাকাছি সরু পথে জট তৈরি হওয়া এখন সাধারণ ঘটনা। নতুন নীতিমালায় আরোহীর সংখ্যা স্বাভাবিকভাবেই কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে ঝুঁকি কমার পাশাপাশি পরিবেশগত চাপও হালকা হবে।

স্বাস্থ্য সনদ বাধ্যতামূলক

আইনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত যোগ হয়েছে। অভিযানে অংশ নেওয়ার আগে সাম্প্রতিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার সনদ জমা দিতে হবে। কঠিন পরিবেশে শারীরিক সক্ষমতা নিশ্চিত করতেই এই ব্যবস্থা।

আবর্জনা ব্যবস্থাপনায় নতুন তহবিল

আগে চার হাজার ডলারের ফেরতযোগ্য জামানত নেওয়া হতো, যা অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর হয়নি। এখন সেই পদ্ধতি বাতিল করে বিশেষ তহবিল গঠন করা হচ্ছে। আরোহীদের অর্থ সরাসরি পাহাড় পরিষ্কার, বর্জ্য অপসারণ এবং স্থানীয় কর্মীদের কাজে ব্যয় হবে। এতে পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি কর্মসংস্থানও বাড়বে।

বিকল্প পর্বতে আগ্রহ বাড়ানোর পরিকল্পনা

বিশ্বের উচ্চতম ১৪টি শৃঙ্গের মধ্যে ৮টিই নেপালে অবস্থিত। এছাড়া প্রায় পাঁচ শতাধিক শৃঙ্গ এখনো অনারোহিত। নতুন নীতির ফলে অভিযাত্রীরা কম পরিচিত পর্বতের দিকে ঝুঁকতে পারেন, যা দুর্গম অঞ্চলের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

শেরপাদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া

উচ্চতাজনিত অভিযানের প্রধান সহায়ক শেরপা সম্প্রদায় এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, অভিজ্ঞ আরোহী বাড়লে ঝুঁকি কমবে এবং অপ্রস্তুত মানুষের প্রাণহানি কমবে।

কার্যকর হতে সময় লাগবে

আইনটি এখনো পূর্ণ অনুমোদনের অপেক্ষায়। সব প্রক্রিয়া শেষ হলেও ২০২৬ সালের বসন্ত মৌসুমে এর প্রভাব পড়বে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পর্যটনে দায়িত্বশীলতার দিকে ঝোঁক

২০২৫ সালে নেপালে বিদেশি পর্যটক সংখ্যা ১১ লাখ ৫৮ হাজারের বেশি পৌঁছেছে। পর্যটন বাড়লেও এখন গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে টেকসই ব্যবস্থাপনায়। নিয়ন্ত্রণহীন অভিযান নয়, দায়িত্বশীল ভ্রমণই ভবিষ্যৎ বলে মনে করছেন নীতিনির্ধারকেরা।