ঈদের ছুটিতে বিদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনা করলেও অনেকেই বাজেটের কারণে দ্বিধায় থাকেন। অথচ সামান্য খরচেই প্রকৃতি, সাগর আর দ্বীপের অনন্য সৌন্দর্য উপভোগ করা সম্ভব। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মালয়েশিয়ার লঙ্কাউই হতে পারে এমনই এক সাশ্রয়ী গন্তব্য, যেখানে স্বল্প সময়েই পাওয়া যায় পূর্ণাঙ্গ সমুদ্রভিত্তিক ভ্রমণের অভিজ্ঞতা।
অনেকে দেশটিতে গিয়ে শুধু কুয়ালালামপুর ঘুরেই ফিরে আসেন। কিন্তু প্রকৃত মালয়েশিয়াকে জানতে হলে শহরের বাইরে প্রকৃতির কাছে যাওয়া জরুরি। লঙ্কাউই সেই সুযোগই এনে দেয়। বিশেষ করে মার্চ পর্যন্ত এখানে শুষ্ক মৌসুম থাকে। আকাশ পরিষ্কার থাকে, সমুদ্র তুলনামূলক শান্ত থাকে। ফলে নৌভ্রমণের জন্য সময়টি সবচেয়ে উপযোগী।
লঙ্কাউইয়ের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র পান্তাই চেনাং এলাকা থেকে প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টার দ্বীপভিত্তিক নৌভ্রমণ পরিচালিত হয়। স্থানীয় ভ্রমণসংস্থাগুলো নির্ধারিত খরচের মধ্যেই যাতায়াতসহ চার থেকে পাঁচ ঘণ্টার এই আয়োজন সম্পন্ন করে। অবস্থানস্থল থেকে পর্যটকদের নিয়ে যাওয়া এবং ভ্রমণ শেষে আবার পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকে। স্বল্প খরচে এত দীর্ঘ সমুদ্রভ্রমণ অনেকের কাছেই বিস্ময়কর অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে।
ভৌগোলিকভাবে দ্বীপটি থাইল্যান্ড সীমান্তের খুব কাছাকাছি। এখান থেকে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে নৌযান চলাচল করে কো লিপে দ্বীপে। ফলে এক ভ্রমণেই দুই দেশের প্রকৃতির মিল-অমিল দেখার সুযোগ তৈরি হয়।
এই নৌভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ দায়াং বুনটিং দ্বীপ। এখানে পাহাড়ঘেরা একটি স্বচ্ছ স্বাদুপানির হ্রদ রয়েছে, যা প্রাকৃতিকভাবে সাগরের লবণাক্ত পানি থেকে বিচ্ছিন্ন। পর্যটকদের নির্দিষ্ট সময় সেখানে সাঁতার ও অবকাশযাপনের সুযোগ দেওয়া হয়।
আরেকটি অংশে দূর থেকে দেখা যায় শায়িত গর্ভবতী নারীর আকৃতির মতো এক শিলাপাহাড়, যা এই অঞ্চলের পরিচিত প্রাকৃতিক নিদর্শন। পরে নৌযান নিয়ে যাওয়া হয় এমন এক এলাকায়, যেখানে অসংখ্য বাদামি ঈগল আকাশে ভেসে বেড়ায়। ঈগল এই দ্বীপপুঞ্জের প্রতীক, এমনকি স্থানীয় ভাষার দুটি শব্দ থেকেই লঙ্কাউই নামের উৎপত্তি।
ভ্রমণের শেষ ভাগে পর্যটকদের নিয়ে যাওয়া হয় নিরিবিলি কোনো সৈকতে। সেখানে এক থেকে দেড় ঘণ্টা সময় কাটানো যায়। নীল জলরাশি, সবুজ পাহাড় আর শান্ত পরিবেশ মিলিয়ে এটি হয়ে ওঠে পুরো ভ্রমণের সবচেয়ে প্রশান্ত অংশ।
লঙ্কাউই পৌঁছাতে চাইলে পেনাং বা কুয়ালালামপুর থেকে সরাসরি উড়োজাহাজে লঙ্কাউই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর যাওয়া যায়। এছাড়া কুয়ালা কেদাহ অথবা কুয়ালা পার্লিস বন্দর থেকেও ফেরি ও দ্রুতগতির নৌযানে পৌঁছানো সম্ভব।