দক্ষিণ এশিয়ার দ্বীপদেশ শ্রীলঙ্কা এমন এক গন্তব্য, যেখানে বছরের যে কোনো সময় ভ্রমণের সুযোগ আছে। দ্বীপজুড়ে ভিন্ন ভিন্ন আবহাওয়ার কারণে এক অঞ্চলে বৃষ্টি হলেও অন্য প্রান্তে রোদ, সমুদ্র আর দর্শনীয় স্থান উপভোগ করা যায়।
বিষুবরেখার কাছাকাছি অবস্থানের ফলে শ্রীলঙ্কায় সারা বছরই তাপমাত্রা গড়ে ত্রিশ ডিগ্রির আশপাশে থাকে। তবে পাহাড়ি এলাকায় গেলে আবহাওয়া তুলনামূলক শীতল হয়। দেশটিতে দুটি বর্ষাকাল থাকায় ভ্রমণের সময় অঞ্চলভেদে আবহাওয়া বিবেচনা করা জরুরি।
শ্রীলঙ্কা ভ্রমণে সাধারণত সমুদ্রসৈকত, জাতীয় উদ্যান, পাহাড়ি অঞ্চল ও প্রাচীন নগরের অভিজ্ঞতা একসঙ্গে পাওয়া যায়। পাশাপাশি সারা বছর জুড়ে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসব ভ্রমণকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তোলে।
ডিসেম্বর থেকে মার্চ
এই সময়টি দেশের দক্ষিণ ও পশ্চিম উপকূলে সবচেয়ে শুষ্ক। হিক্কাডুয়া ও মিরিসার মতো সৈকত এলাকায় পর্যটকের ভিড় বাড়ে। সার্ফিং ও সৈকতভিত্তিক ভ্রমণের জন্য এটি সেরা সময়। একই সময়ে জাতীয় উদ্যানগুলোতে হাতি, চিতাবাঘ ও মহিষ দেখার সুযোগ বেশি থাকে।
ডিসেম্বর থেকে এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত আদম শৃঙ্গের তীর্থযাত্রা চলে। কলম্বোয় দুরুথু পেরাহেরা এবং গালে বার্ষিক সাহিত্য উৎসব এই সময়ের উল্লেখযোগ্য আয়োজন।
এপ্রিল ও সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর
দুটি বর্ষাকালের মাঝামাঝি এই সময়টিকে শ্রীলঙ্কার ভ্রমণের সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ সময় ধরা হয়। পাহাড়ি অঞ্চলে ট্রেকিং, সিগিরিয়া দর্শন কিংবা পুরো দেশ ঘুরে দেখার জন্য আবহাওয়া বেশ সহনীয় থাকে।
এপ্রিল মাসে সিংহলি ও তামিল নববর্ষ উপলক্ষে সারা দেশে ছুটি ও উৎসবের আমেজ থাকে। একই সঙ্গে পর্যটকের চাপ কমে আসায় খরচও তুলনামূলক কম হয়।
মে থেকে আগস্ট
এই সময় পশ্চিম ও দক্ষিণ উপকূলে বর্ষা সক্রিয় থাকলেও পূর্ব উপকূল ও উত্তরাঞ্চল ভ্রমণের জন্য উপযোগী থাকে। জাফনা ও আরুগাম উপসাগর এই সময় জনপ্রিয় গন্তব্য।
মে মাসে বুদ্ধ পূর্ণিমা, জুনে পোষণ পূর্ণিমা এবং জুলাই-আগস্টে ক্যান্ডির ঐতিহ্যবাহী এসালা পেরাহেরা অনুষ্ঠিত হয়। এসব উৎসব শ্রীলঙ্কার ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ঘনিষ্ঠভাবে দেখার সুযোগ দেয়।
পূর্ণিমার দিন
শ্রীলঙ্কায় প্রতিটি পূর্ণিমা সরকারি ছুটি। এ দিনগুলোতে মদ বিক্রি বন্ধ থাকে এবং ধর্মীয় স্থানে ভিড় বাড়ে। অনুরাধাপুরার শ্রী মহাবোধি বৃক্ষ দর্শনের জন্য এই সময় বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।