বিশ্ব ভ্রমণ এখন শুধু অবকাশযাপন নয়, এটি হয়ে উঠেছে বৈশ্বিক অর্থনীতির এক শক্তিশালী চালিকাশক্তি। বিমান চলাচল, হোটেল, খুচরা বাণিজ্য, অবকাঠামো ও সংস্কৃতি খাত মিলিয়ে পর্যটন কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে এবং বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে বিপুল অবদান রাখছে। বিশ্ব ভ্রমণ ও পর্যটন কাউন্সিলের ২০২৪–২৫ সময়কালের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, মহামারি-পরবর্তী পুনরুদ্ধার পেরিয়ে এই খাত রেকর্ড পরিমাণ অর্থনৈতিক অবদান অর্জন করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভ্রমণ ও পর্যটন খাতের মোট অবদান হিসাব করা হয়েছে একটি দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে সরাসরি ও পরোক্ষ ব্যয় যোগ করে। এর মধ্যে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যটকের খরচ, সংশ্লিষ্ট শিল্পে প্রভাব এবং কর্মসংস্থানের অবদান অন্তর্ভুক্ত। এই হিসাবেই নির্ধারিত হয়েছে বিশ্বের শীর্ষ ১০ পর্যটন অর্থনীতির তালিকা।

যুক্তরাষ্ট্র
বিশ্বের বৃহত্তম পর্যটন অর্থনীতি হিসেবে শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পর্যটন খাতের অর্থনৈতিক অবদান প্রায় দুই দশমিক তিন ছয় ট্রিলিয়ন ডলার। শক্তিশালী দেশীয় ভ্রমণ বাজারই এর প্রধান ভরসা। থিম পার্ক, জাতীয় উদ্যান, বাণিজ্যিক ভ্রমণ কেন্দ্র মিলিয়ে অবকাশ ও করপোরেট পর্যটন দুটোই সমানভাবে সমৃদ্ধ।
চীন
দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা চীনের অবদান প্রায় এক দশমিক তিন ট্রিলিয়ন ডলার। বিশাল দেশীয় পর্যটন বাজার, উৎসব মৌসুমে ব্যাপক ভ্রমণ এবং ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণি এই খাতকে দ্রুত সম্প্রসারিত করছে। আগত পর্যটকের সংখ্যাও ধীরে ধীরে বাড়ছে।
জার্মানি
ইউরোপের সবচেয়ে বড় পর্যটন অর্থনীতি জার্মানির অবদান প্রায় চারশ সাতাশি দশমিক ছয় বিলিয়ন ডলার। বাণিজ্য মেলা, ব্যবসায়িক ভ্রমণ এবং শক্তিশালী দেশীয় পর্যটন মিলিয়ে সারা বছরই ভ্রমণ সচল থাকে।

জাপান
জাপানের পর্যটন খাতের অবদান প্রায় দুইশ সাতানব্বই বিলিয়ন ডলার। নিরাপত্তা, উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা এবং ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মিশ্রণ আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আকর্ষণ করছে।
যুক্তরাজ্য
প্রায় দুইশ পঁচানব্বই দশমিক দুই বিলিয়ন ডলার অবদান নিয়ে যুক্তরাজ্যও শীর্ষ তালিকায় রয়েছে। লন্ডনসহ বিভিন্ন অঞ্চলে অবকাশ, শিক্ষা ও ব্যবসায়িক ভ্রমণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ফ্রান্স
বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য ফ্রান্সের অবদান প্রায় দুইশ চৌষট্টি দশমিক সাত বিলিয়ন ডলার। প্যারিসসহ বিভিন্ন অঞ্চল পর্যটনে বৈচিত্র্য এনে দিচ্ছে।
মেক্সিকো
প্রায় দুইশ একষট্টি দশমিক ছয় বিলিয়ন ডলারের অবদান নিয়ে মেক্সিকো তালিকায় রয়েছে। সমুদ্রসৈকত ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাই এর প্রধান আকর্ষণ।
ভারত
প্রায় দুইশ একত্রিশ দশমিক ছয় বিলিয়ন ডলার অবদান নিয়ে ভারত প্রথমবারের মতো শীর্ষ দশে জায়গা করে নিয়েছে। পাহাড়, সমুদ্রসৈকত, তীর্থস্থান ও পরিবেশবান্ধব পর্যটনে বিনিয়োগ দেশীয় ভ্রমণকে শক্তিশালী করেছে।
ইতালি
ইতালির অবদান প্রায় দুইশ একত্রিশ দশমিক তিন বিলিয়ন ডলার। ঐতিহাসিক শহর ও সাংস্কৃতিক পর্যটন এখানকার মূল ভিত্তি।
স্পেন
তালিকার দশম স্থানে থাকা স্পেনের অবদান প্রায় দুইশ সাতাশ দশমিক নয় বিলিয়ন ডলার। সমুদ্রসৈকত, নগর ভ্রমণ ও উৎসবভিত্তিক পর্যটন অর্থনীতিকে চাঙ্গা রেখেছে।