চাঁদপুরে প্রকৃতির নীরব সৌন্দর্যের এক নতুন ঠিকানা হয়ে উঠেছে ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’। সবুজ ঘাসের চাদর, খোলা আকাশ আর নদীতীরের নির্মল পরিবেশ মিলিয়ে এখানে তৈরি হয়েছে প্রশান্তির আবহ। বিকেলের সোনালি আলোয় প্রকৃতির রঙ বদলের দৃশ্য দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা।

জেলা শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে চাঁদপুর সেচ প্রকল্পের ভেতরে ডাকাতিয়া নদীর তীরে গড়ে উঠেছে এই আকর্ষণীয় স্থান। সেচ প্রকল্পের জলনিয়ন্ত্রণ ফটকের পাশের বিস্তৃত সবুজ জমিতে কয়েক দিন ধরে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নারী, পুরুষ ও শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ সেখানে সময় কাটাতে আসছেন।

প্রকৃতির খোলা পরিসর, নির্মল বাতাস এবং নদীর শান্ত স্রোত মিলিয়ে এলাকাটি হয়ে উঠেছে ভ্রমণপ্রিয় মানুষের পছন্দের জায়গা। বন্ধুদের আড্ডা, পরিবারের সঙ্গে অবসর কাটানো কিংবা ছবি তোলার জন্য দর্শনার্থীরা এই স্থান বেছে নিচ্ছেন। অনেকে নিজের স্মৃতি ধরে রাখতে ছবি তুলছেন, আবার কেউ নিরিবিলি বসে প্রকৃতির রূপ উপভোগ করছেন।

বিকেলের আলো যখন সবুজ ঘাসের ওপর পড়ে, তখন পুরো এলাকা এক অন্যরকম আবহ তৈরি করে। সেই দৃশ্য অনেকের কাছে ইউরোপের পাহাড়ি দেশের কথা মনে করিয়ে দেয়। এ কারণেই স্থানীয়রা আদর করে জায়গাটির নাম দিয়েছেন ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’।

স্থানীয়দের মতে, প্রাকৃতিক পরিবেশ অক্ষুণ্ন রেখে যদি প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধা বাড়ানো যায়, তবে এটি চাঁদপুরের অন্যতম প্রধান ভ্রমণকেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। বর্তমানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে মানুষ এখানে আসছেন। তবে নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

চাঁদপুর জেলায় এর বাইরে আরও কয়েকটি দর্শনীয় স্থান রয়েছে। ত্রিনদীর মোহনা, মিনি কক্সবাজার, মোহনপুর পর্যটনকেন্দ্র এবং ফারিমা রিসোর্টসহ মোট পাঁচ থেকে ছয়টি স্থান ঘুরতে আসা মানুষের কাছে আকর্ষণীয়। এসব স্থানের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন এই প্রাকৃতিক বিনোদনকেন্দ্র।