ধর্মীয় পর্যটনের বিশ্বমানচিত্রে আরও দৃঢ় অবস্থান তৈরি করছে মদিনা। অবকাঠামো উন্নয়ন, সেবার মানোন্নয়ন এবং দর্শনার্থীর ক্রমবর্ধমান চাপ সামাল দিতে ধারাবাহিক বিনিয়োগের ফলে ২০২৫ সালে শহরটির পর্যটন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই প্রবৃদ্ধি শুধু মৌসুমি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক রূপান্তরের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মদিনায় পর্যটন খাতে মোট ব্যয় ২২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৫২ বিলিয়ন সৌদি রিয়ালে পৌঁছেছে। একই সময়ে দর্শনার্থীর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২ কোটি ১০ লাখ। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ধর্মীয় গন্তব্য হিসেবে শহরটির বাড়তি আকর্ষণই এই প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি।

চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আতিথেয়তা খাতেও দ্রুত সম্প্রসারণ ঘটেছে। শহরটিতে লাইসেন্সপ্রাপ্ত আতিথেয়তা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬১০-এ। লাইসেন্সপ্রাপ্ত কক্ষসংখ্যা ২৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৭৬ হাজার ছাড়িয়েছে। পাশাপাশি ভ্রমণ ও পর্যটন সংস্থার সংখ্যা ২৯ শতাংশ বেড়ে ২৪০টির বেশি হয়েছে, যা পর্যটন সহায়ক সেবার বিস্তৃতিকে নির্দেশ করে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন মদিনার পর্যটন খাতকে প্রচলিত মৌসুমি নির্ভরতা থেকে বের করে এনে বৈচিত্র্যময় সেবা, উন্নত ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখার পথে এগিয়ে নিচ্ছে। ফলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং নগর উন্নয়নের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে।

রমজান উপলক্ষে পর্যটন কার্যক্রম আরও জোরদার করতে সৌদি আরব সরকারের পর্যটনমন্ত্রী আহমেদ আল খতিব মদিনা সফর করেন। সফরের অংশ হিসেবে তিনি জেদ্দা ও মক্কা-তেও পরিদর্শন করেন। তিনি আতিথেয়তা সুবিধা, সেবার প্রস্তুতি এবং রমজান মৌসুমে দর্শনার্থীদের অভিজ্ঞতা উন্নয়নের বিভিন্ন দিক সরেজমিনে পর্যালোচনা করেন।

মন্ত্রী জানান, গত পাঁচ বছরে বহু আন্তর্জাতিক আতিথেয়তা প্রকল্প ও ব্র্যান্ড মদিনার বাজারে প্রবেশ করেছে। এতে শুধু খাতটির প্রবৃদ্ধিই ত্বরান্বিত হয়নি, বরং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থাও বেড়েছে। তিনি বলেন, পর্যটন খাতকে বিনিয়োগবান্ধব ও সমন্বিত ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে, যাতে উদ্যোক্তারা সহজে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন।

সফরকালে ৩৯ মিলিয়ন সৌদি রিয়ালের বেশি বিনিয়োগে নির্মিত একটি নতুন হোটেল উদ্বোধন করা হয়, যা র্যাডিসন হোটেল মদিনা পরিচালিত। ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের অর্থায়নে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের লক্ষ্য আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করা এবং ক্রমবর্ধমান পর্যটকের চাপ সামাল দেওয়া।