নরক মানেই আগুন, জ্বলন্ত শিখা আর অসহনীয় উত্তাপ এমন ধারণাই আমাদের পরিচিত। কিন্তু পৃথিবীর এক কোণে এমন একটি নরক আছে যেখানে আগুন নয় বরং বরফই প্রধান পরিচয়। উত্তর ইউরোপের দেশ নরওয়ের একটি ছোট গ্রাম হেল প্রতি বছর শীতকালে ঢেকে যায় তুষার আর বরফে। নামের কারণে বিশ্বজুড়ে কৌতূহল তৈরি করা এই গ্রামটি বাস্তবে শান্ত, ঠান্ডা এবং প্রকৃতির সৌন্দর্যে ভরা।
হেল গ্রামটি অবস্থিত নরওয়ের ট্রন্ডেলাগ কাউন্টিতে। জনসংখ্যা খুব বেশি নয়। তবে নামের ব্যতিক্রমী অর্থের কারণে এটি বহু পর্যটকের আগ্রহের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
নামের রহস্য কী
ইংরেজি ভাষায় Hell শব্দের অর্থ নরক। তবে নরওয়েজিয়ান ভাষায় এর অর্থ একেবারেই আলাদা। প্রাচীন নর্স শব্দ hellir থেকে এই নাম এসেছে যার অর্থ পাথুরে গুহা বা পাহাড়ের ঢাল। অর্থাৎ নামের সঙ্গে আগুন বা শাস্তির কোনও সম্পর্ক নেই। তবুও ইংরেজিভাষী পর্যটকদের কাছে এই নামই গ্রামটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ।
যখন নরক সত্যিই বরফে জমে
ইংরেজিতে When hell freezes over একটি জনপ্রিয় প্রবাদ। বাস্তবে নরওয়ের এই গ্রামে সেটাই ঘটে। শীতকালে এখানকার তাপমাত্রা মাইনাস ২০ থেকে মাইনাস ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যায়। চারপাশ ঢেকে যায় সাদা বরফে। তখন রসিকতা করে অনেকেই বলেন নরক সত্যিই জমে গেছে।
রেলওয়ে স্টেশনই প্রধান আকর্ষণ
হেল গ্রামের সবচেয়ে আলোচিত স্থান হলো এর রেলওয়ে স্টেশন। স্টেশনের দেয়ালে বড় অক্ষরে লেখা আছে HELL। পর্যটকরা এখানে এসে এই সাইনবোর্ডের সামনে ছবি তুলতে ভিড় করেন। স্টেশনের পাশের মালবাহী গুদামে লেখা Hell Gods expedition। নরওয়েজিয়ান ভাষায় এটি সাধারণ মাল পরিবহন বোঝালেও ইংরেজিতে এর অর্থ দাঁড়ায় নরকের দেবতার অভিযান যা পর্যটকদের কাছে বেশ মজার।
সুন্দরীর নরক থেকে বিশ্বমঞ্চে
এই গ্রামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক চমকপ্রদ ইতিহাসও। ১৯৯০ সালের মিস ইউনিভার্স বিজয়ী মোনা গ্রুড এক সময় এই গ্রামেই বসবাস করতেন। সে সময় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তাকে মজা করে Beauty Queen from Hell বলা হয়েছিল। এতে গ্রামটির পরিচিতি আরও বেড়ে যায়।
সুরের উৎসব ব্লুজ ইন হেল
প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসে এখানে অনুষ্ঠিত হয় Blues in Hell নামের একটি সঙ্গীত উৎসব। এই উৎসবে বিশ্বের নানা দেশ থেকে ব্লুজ সংগীতপ্রেমীরা অংশ নেন। ঠান্ডা আবহাওয়া আর সংগীতের মেলবন্ধনে হেল গ্রাম তখন হয়ে ওঠে এক অনন্য মিলনমেলা।