বিশ্বজুড়ে ভ্রমণকারীরা যখন আলাস্কা বা ব্যাংফের মতো জনপ্রিয় গন্তব্যে ভিড় জমান, তখন কানাডার উত্তর লাব্রাডরের এক অচেনা কোণে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকে এক অলৌকিক প্রকৃতির রাজ্য। বছরে মাত্র ৬০০ জন মানুষ পা রাখেন যেখানে, সেই টর্নগাট মাউন্টেনস ন্যাশনাল পার্ককে ৬০টিরও বেশি জাতীয় উদ্যান পরিভ্রমণের অভিজ্ঞতা থেকে অনেকে উত্তর আমেরিকার সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন স্থান বলে মনে করছেন।

ভ্রমণ লেখক রবার্ট অ্যানিস অ্যাডভেঞ্চার কানাডার ওশান এন্ডেভার অভিযান জাহাজে চড়ে এই পার্কে পৌঁছান। ইক্লিপস বে থেকে মাত্র ছয়-সাত মাইলের হাইক হলেও পিঠে ৪০ পাউন্ডের ক্যামেরা সরঞ্জাম নিয়ে স্পঞ্জি তুন্দ্রা আর গ্নেইস পাথরের ঢাল বেয়ে ওঠা ছিল কঠিন পরীক্ষা। তবে শীর্ষে পৌঁছানোর পর যে দৃশ্য চোখে পড়ে তা অবিশ্বাস্য — বরফাবৃত পাহাড়, হিমবাহ-পোষিত বিশাল হ্রদ, আগুন-লাল তুন্দ্রার শরতের সাজ আর পাথুরে গিরিখাত বেয়ে নেমে আসা দ্রুতগামী নদী।

পার্কটিতে কোনো নির্দিষ্ট ট্রেইল নেই, কারণ এত কম মানুষ আসেন যে এই নিখুঁত প্রকৃতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করার প্রয়োজন নেই বলেই মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিটি দলকে স্থানীয় আদিবাসী ইনুইট ভালুক রক্ষীদের সঙ্গে নিয়ে আসতে হয়, যা এই পার্কের অন্যতম বিশেষত্ব। এই রক্ষীরা কেবল ভালুকের হাত থেকে রক্ষা করেন না, বরং হাজার বছরের ইনুইট জীবন ও সংস্কৃতির গল্পও শোনান পর্যটকদের।

Torres del Paine National Park, Chilean Patagonia

রামাহ বেতে কায়াকিং করতে গিয়ে মিঙ্কে তিমির দল দেখা, হিমশীতল ঝর্নার নিচে দাঁড়িয়ে লাব্রাডরের আত্মায় স্নান, আর শৈলশিরার উপর থেকে ছোট খেলনার মতো দেখতে জাহাজ — এ সব মুহূর্ত দীর্ঘস্থায়ী হয় মনে। পার্কের ইতিহাসে রয়েছে বেদনারও ছোঁয়া। প্রায় ৭৫ বছর আগে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির শিকার হয়েছিলেন ইনুইটরা। কানাডা সরকার ২০০৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চায় এবং হেব্রন বসতিতে স্মারক ফলক স্থাপন করা হয়।

অভিযানের শেষে নেইন শহরে স্থানীয় বিদ্যালয়ে শিশুদের ঐতিহ্যবাহী নৃত্য, থ্রোট সিঙিং আর ড্রামবাদন দেখা ছিল অন্যরকম এক অভিজ্ঞতা। পর্যটক ডাগ রজার্স জানান, ২০ বছর আগের আর্কটিক সফরের পর এবারের যাত্রায় তিনি শুধু প্রকৃতি নয়, লাব্রাডরের মানুষদের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ জীবনও নতুনভাবে আবিষ্কার করেছেন।