ভালোবাসার দিনটি এবার ইতালির জন্য হয়ে উঠল গভীর বেদনার। যেদিন পৃথিবী জুড়ে মানুষ প্রিয়জনকে ভালোবাসার কথা জানাচ্ছিল, ঠিক সেদিনই নীরবে বিদায় নিল ইতালির পুলিয়া অঞ্চলের ঐতিহাসিক 'লাভার্স আর্চ'। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে অ্যাড্রিয়াটিক সমুদ্রের বুকে দাঁড়িয়ে থাকা এই প্রাকৃতিক চুনাপাথরের খিলান ২০২৬ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি চিরতরে সমুদ্রের গর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

ইতালির পুলিয়া অঞ্চলের ফারাগ্লিওনি দি সান্ত'আন্দ্রেয়া উপকূলের এই প্রাকৃতিক খিলান ছিল বিশ্বের সবচেয়ে রোমান্টিক স্থানগুলোর একটি। এখানে প্রচলিত লোককথা অনুযায়ী, যে প্রেমিকযুগল এই খিলানের নিচে চুম্বন করত, তারা পেত শাশ্বত ভালোবাসার আশীর্বাদ। এই বিশ্বাসকে বুকে ধারণ করে প্রতি বছর হাজার হাজার পর্যটক, নবদম্পতি, ফটোগ্রাফার ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার এখানে ছুটে আসতেন ভোরের আলো ও সন্ধ্যার লালিমায়।

১৪ ফেব্রুয়ারি স্টর্ম ওরিয়ানার প্রচণ্ড তাণ্ডব শুরু হয় ওই উপকূলে। ভারী বৃষ্টি, ঝোড়ো বাতাস আর উত্তাল সমুদ্রের সম্মিলিত আঘাতে ভেঙে পড়ে কয়েকশো বছর পুরনো এই খিলান। পরদিন ভোরে পর্যটকরা এসে দেখতে পান যেখানে একসময় মনোরম খিলান শোভা পেত, সেখানে এখন শুধু ধ্বংসস্তূপ আর শূন্যতা।

মেলেন্দুনোর মেয়র মাউরিজিও চিস্তেরনিনো বলেন, এটি একটি অযাচিত ভালোবাসা দিবসের উপহার। আঞ্চলিক প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও দেচারো জানান, দীর্ঘদিন ধরেই উপকূলীয় ক্ষয়ের কারণে খিলানটি দুর্বল হয়ে পড়ছিল, কিন্তু সাম্প্রতিক চরম আবহাওয়া এই পতনকে ত্বরান্বিত করে।

ভূবিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রাকৃতিক খিলান গঠনগতভাবেই অস্থায়ী। ক্ষয়ের মধ্য দিয়ে জন্ম নেওয়া এই কাঠামোগুলো একদিন না একদিন ভেঙে পড়বেই, তবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই প্রক্রিয়া এখন অনেক দ্রুত হচ্ছে। মেয়র আরও সতর্ক করেছেন যে আশপাশের আরও কিছু অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে।