শীতকালীন অলিম্পিক্সের উত্তাপ এখন ইতালির বাণিজ্যিক রাজধানী মিলানের অলিগলিতে। তবে এই উত্তাপ কেবল ক্রীড়াঙ্গনে সীমাবদ্ধ নেই, বরং শহরটির অর্থনীতিতে বইছে উষ্ণ হাওয়া।
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অলিম্পিক্স দেখতে আসা পর্যটক, অংশগ্রহণকারী অ্যাথলেট এবং সহায়ক কর্মীদের সম্মিলিত ব্যয়ের পরিমাণ স্থানীয়ভাবে প্রায় ১০০ কোটি ইউরো ছাড়িয়ে যাবে। পর্যটন খাতের এই অভাবনীয় উল্লম্ফন মিলানের সামগ্রিক জিডিপি প্রবৃদ্ধিকে এক লাফে দ্বিগুণ করে দিচ্ছে।
আঞ্চলিক ব্যবসায়িক সংস্থা ‘অ্যাসোলোম্বার্ডা’র প্রতিবেদন বলছে, পর্যটন ও পরিষেবার এই চাঙা ভাব মিলানের অর্থনীতিতে সঞ্জীবনী সুধা হিসেবে কাজ করছে।
২০২৫ সালে যেখানে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ০.৭%, অলিম্পিক্সের কল্যাণে ২০২৬ সালে তা বেড়ে ১.৭%-এ পৌঁছবে।
মিলান মহানগর এলাকায় এই গেমস থেকে মোট উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ২৫০ কোটি ইউরো।
স্থানীয় অর্থনীতিতে অলিম্পিক্সের নিট ভ্যালু অ্যাডেড বা মূল্য সংযোজন হবে প্রায় ১০৪ কোটি ইউরো।
মেয়র জিউসেপ সালা এই আয়োজনকে ইতিহাসের অন্যতম 'সর্বাধিক দেখা অলিম্পিক্স' হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, বিপুল সংখ্যক বিদেশি পর্যটকের আগমন কেবল সাময়িক নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে মিলানের ব্র্যান্ড ইমেজকে শক্তিশালী করবে। বিশেষ করে সান সিরো স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান এবং প্রায় ৯০টি ইনডোর আইস ইভেন্টকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের ভিড় এখন তুঙ্গে।
শহরের অবকাঠামো এবং অলিম্পিক্স আয়োজনে সরাসরি ৭৩ কোটি ৫০ লাখ ইউরো বিনিয়োগ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৯ কোটি ৭০ লাখ ইউরো ব্যয় হচ্ছে আধুনিকায়ন ও স্থায়ী বিনিয়োগে, যা গেমস শেষ হওয়ার পরেও মিলানের সম্পদ হিসেবে থেকে যাবে।
অ্যাসোলোম্বার্ডার প্রেসিডেন্ট আলভিস বিফি বলেন, 'মিলান এখন এক ইতিবাচক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। এই মেগা ইভেন্টটি শহরের রূপান্তরকে কয়েক গুণ ত্বরান্বিত করেছে।'