নতুন বছরের শুরুতেই দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পার্বত্য পর্যটন জেলা রাঙামাটিতে প্রত্যাশিত ভিড় দেখা যায়নি। শীত মৌসুমকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর যে পর্যটনচাঞ্চল্য তৈরি হয়, এবার তার ব্যতিক্রম ঘটেছে। পর্যটকের উপস্থিতি কমে যাওয়ায় হোটেল-রিসোর্ট, নৌভ্রমণ, পরিবহন ও ক্ষুদ্র ব্যবসা নির্ভর স্থানীয় অর্থনীতিতে ধীরগতি নেমে এসেছে।

সোমবার পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, আগের বছরের তুলনায় দর্শনার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কম। বিশেষ করে পলওয়েল পার্ক, কাপ্তাই লেক এবং ঝুলন্ত সেতু এলাকায় স্বাভাবিক সময়ের মতো ভিড় নেই। স্থানীয়দের মতে, জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে ভ্রমণ পরিকল্পনা কমে যাওয়ায় মৌসুমের মধ্যভাগেই এই স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

হোটেল ও রিসোর্ট মালিকরা জানান, শীত মৌসুমে সাধারণত কক্ষ দখলের হার ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ থাকে। কিন্তু চলতি মৌসুমে অনেক প্রতিষ্ঠানে তা নেমে এসেছে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশে। পর্যটক আকর্ষণে কক্ষভেদে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড় দিতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও রমজানকে সামনে রেখে ইফতার ও সাহরি প্যাকেজ চালু করা হয়েছে।

পর্যটন খাতের এই মন্দাভাব সরাসরি প্রভাব ফেলেছে নৌভ্রমণ ব্যবসায়। কাপ্তাই লেককেন্দ্রিক নৌযান চলাচল কমে যাওয়ায় মাঝি, চালক ও সংশ্লিষ্ট শ্রমজীবীদের আয় কমেছে। একই সঙ্গে হ্রদপাড়ের খাবারের দোকান, চা-স্টল ও হস্তশিল্প বিক্রয়কেন্দ্রেও ক্রেতা কমে গেছে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বলছেন, পর্যটক না থাকায় দৈনন্দিন আয় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

স্থানীয় পর্যটন সংশ্লিষ্টরা জানান, নির্বাচন ও আসন্ন রমজান মৌসুমের প্রভাব সাময়িক। তাদের আশা, ঈদ ও দীর্ঘ ছুটিকে কেন্দ্র করে আবারও পর্যটকের ঢল নামবে। এ বিষয়ে সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তারা বলছেন, পাহাড়, হ্রদ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে রাঙামাটি সব সময়ই ভ্রমণপিপাসুদের কাছে আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে থাকবে।

ব্যবসায়ী মহল মনে করছে, পর্যটন সচল থাকলে স্থানীয় বাজার, পরিবহন ও সেবাখাতেও স্বাভাবিক গতি ফিরে আসে। রাঙামাটি চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি নেতারা বলেন, পর্যটকের সংখ্যা বাড়লেই জেলার সামগ্রিক অর্থনৈতিক লেনদেন আবারও প্রাণ ফিরে পাবে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সাময়িক এই মন্দা কাটিয়ে পর্যটকের আনাগোনা বাড়লে রাঙামাটির পর্যটননির্ভর জীবনযাত্রা দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে উঠবে।