দুবাই বিশ্ব পর্যটনের মানচিত্রে নতুন ইতিহাস রচনা করেছে। ২০২৫ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই শহর রেকর্ড সংখ্যক পর্যটক আকৃষ্ট করে নিজেকে শীর্ষস্থানীয় গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
দুবাই ডিপার্টমেন্ট অব ইকোনমি অ্যান্ড ট্যুরিজমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দুবাই মোট ১৯ দশমিক ৫৯ মিলিয়ন আন্তর্জাতিক পর্যটক বরণ করেছে। এটি পূর্ববর্তী বছর ২০২৪ সালের ১৮ দশমিক ৭২ মিলিয়ন পর্যটকের তুলনায় ৫ শতাংশ বেশি। এই সাফল্য শহরটির জন্য টানা তৃতীয় বছরের রেকর্ড-ভাঙা পর্যটন অর্জন।
কৌশলগত অংশীদারিত্ব, নতুন বৈশ্বিক প্রচারাভিযান এবং বিভিন্ন বড় ইভেন্ট আয়োজনের মাধ্যমে এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে। বিশেষ করে ডিসেম্বর ২০২৫ সালে প্রথমবারের মতো একক মাসে ২ দশমিক শূন্য ৪ মিলিয়ন আন্তর্জাতিক দর্শনার্থী এসেছেন, যা আগের রেকর্ড ভেঙে নতুন মাইলফলক তৈরি করেছে।
ভিজিট দুবাইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইসাম কাজিম বলেছেন, এই রেকর্ড সংখ্যা বিশ্বব্যাপী পর্যটকদের আস্থা এবং ডি৩৩ অর্থনৈতিক এজেন্ডার সফলতার প্রমাণ। তিনি ডিজিটাল সেবা উন্নয়ন, গ্রাহক অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি এবং টেকসই অবকাঠামো বিনিয়োগের কৃতিত্ব দিয়েছেন।
আঞ্চলিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, পশ্চিম ইউরোপ সবচেয়ে বড় পর্যটক বাজার হিসেবে ৪ দশমিক ১০ মিলিয়ন দর্শনার্থী পাঠিয়েছে, যা মোট পর্যটকের ২১ শতাংশ। সিআইএস ও পূর্ব ইউরোপ এবং দক্ষিণ এশিয়া উভয় অঞ্চল থেকেই ২ দশমিক ৮৯ মিলিয়ন করে পর্যটক এসেছেন। আমেরিকা মহাদেশ থেকে ১ দশমিক ৪০ মিলিয়ন এবং আফ্রিকা থেকে ৮ লাখ ৯৭ হাজার পর্যটক দুবাই ভ্রমণ করেছেন।
হোটেল শিল্পেও নতুন উচ্চতা অর্জিত হয়েছে। বছরের শেষে দুবাইয়ে ৮২৭টি হোটেল ও সম্পত্তিতে মোট ১ লাখ ৫৪ হাজার ২৬৪টি কক্ষ রয়েছে, যা ব্যাংকক, নিউইয়র্ক, প্যারিস এবং সিঙ্গাপুরের তুলনায় বেশি। হোটেলের গড় অকুপেন্সি রেট ৮০ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ২০২৪ সালের ৭৮ দশমিক ২ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু হোটেল সিয়েল দুবাই মেরিনা, জুমেইরা মারসা আল আরব এবং ম্যান্ডারিন ওরিয়েন্টাল ডাউনটাউন দুবাই সহ বেশ কিছু নতুন হোটেল উদ্বোধন হয়েছে। হোটেল রাজস্ব প্রতি উপলব্ধ কক্ষপ্রতি ১১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪৬৭ দিরহামে উন্নীত হয়েছে।
ভিজিট দুবাই'র "ফাইন্ড ইওর স্টোরি" প্রচারাভিযান মিলি ববি ব্রাউন এবং জেক বনজিওভিকে সামনে রেখে বৈশ্বিক দর্শকদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। ম্যারিয়ট ইন্টারন্যাশনাল, ভিসা, হায়াত এবং আমাডিয়াসের সাথে অংশীদারিত্ব পর্যটক সেবা উন্নত করেছে।
টেকসই পর্যটনে দুবাই ১৫৩টি হোটেলকে সার্টিফিকেট দিয়েছে এবং "রিফিল ফর লাইফ" উদ্যোগের মাধ্যমে ৪২ দশমিক ৭ মিলিয়ন প্লাস্টিক বোতল সরিয়েছে। দুবাই রিফ প্রকল্প ৪৭ শতাংশেরও বেশি সম্পন্ন হয়েছে।
২০২৬ সালে আল মাকতুম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং দুবাই মেট্রো ব্লু লাইনের কাজ অব্যাহত থাকবে। ডি৩৩ দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তবায়নে দুবাই আধুনিকতা, ঐতিহ্য এবং পরিবেশ সংরক্ষণের সমন্বয়ে বিশ্ব পর্যটনে নেতৃত্ব বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।