সিলেটের সীমান্তঘেঁষা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নতুন আকর্ষণ হয়ে উঠছে মায়াবতী ঝরনা। পরিচিত পর্যটনকেন্দ্রের বাইরে নিরিবিলি পরিবেশ, পাহাড়ি জলধারা ও খাসিয়া জনপদের বৈচিত্র্যময় জীবনযাপন মিলিয়ে স্থানটি ইতোমধ্যে ভ্রমণপিপাসুদের নজর কাড়ছে।

সিলেট নগরী থেকে জাফলং অভিমুখে সড়কপথে যেতে যেতে দেখা মেলে সবুজ পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি ও চা-বাগানঘেরা জনপদের। পথে ঐতিহ্যবাহী মুরারিচাঁদ কলেজ এলাকা অতিক্রম করে পর্যটকরা পৌঁছান জাফলং বল্লাঘাটে, যেখান থেকে নৌকায় পার হতে হয় পিয়াইন নদী।

নদী পার হলেই খাসিয়াদের বসতি বা পুঞ্জি। এসব পুঞ্জিতে সাধারণত মাটির কয়েক ফুট ওপরে কাঠের তৈরি ঘর দেখা যায়। প্রতিটি বাড়ির পাশে থাকে পানবরজ। মাতৃতান্ত্রিক এই সম্প্রদায়ের পুরুষেরা গাছ বেয়ে পানপাতা সংগ্রহ করেন এবং নারীরা তা সংরক্ষণ ও বাজারজাত করার কাজ করেন। স্থানীয় জীবনধারার এই দৃশ্য পর্যটকদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করছে।

পাহাড়ি পথ ধরে অল্প দূর হাঁটলেই শোনা যায় ঝরনার শব্দ। সীমান্তের ওপারে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের বিস্তৃত পাহাড়শ্রেণি, বিশেষ করে খাসিয়া জৈন্তিয়া পাহাড় থেকে নেমে আসা স্বচ্ছ জলধারা এই ঝরনার মূল উৎস। বর্ষা মৌসুমে পাহাড় সবুজে ঢেকে যায় এবং মেঘ, রোদ ও জলধারার মেলবন্ধনে তৈরি হয় দৃষ্টিনন্দন প্রাকৃতিক দৃশ্য।

স্থানীয়দের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পর্যটকরা এখানে ভিড় করছেন। নিরিবিলি পরিবেশ, তুলনামূলক কম বাণিজ্যিকীকরণ এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে এটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

তবে ঝরনার আশপাশে বড় পাথর ও পিচ্ছিল পথ থাকায় অসতর্কভাবে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে ঝরনার একেবারে শেষ প্রান্তে যাওয়ার চেষ্টা না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে প্লাস্টিক ও বর্জ্য না ফেলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

যেভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে বাস বা ট্রেনে সিলেট যাওয়া যায়। সেখান থেকে লোকাল বাসে জাফলং মামার বাজার অথবা ভাড়া করা গাড়িতে বল্লাঘাট পৌঁছানো যায়। বল্লাঘাট থেকে নৌকায় নদী পার হয়ে খাসিয়াপুঞ্জি হয়ে নির্দিষ্ট পথে কিছু দূর হাঁটলেই মায়াবতী ঝরনার দেখা মেলে।
চাইলেও পর্যটক নৌকা ব্যবহার করে সরাসরি কাছাকাছি পৌঁছানো সম্ভব।