তীব্র জ্বালানি সংকটের ধাক্কায় কিউবায় পর্যটন খাত কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাট, ফ্লাইট বাতিল এবং হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিদেশি পর্যটকরা একের পর এক দ্বীপটি ছাড়ছেন। এতে আগে থেকেই দুর্বল অর্থনীতিতে আরও বড় চাপ তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কিউবায় পেট্রোলিয়ামের তীব্র ঘাটতির কারণে প্রতিদিনই দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। অনেক এলাকায় রাতভর অন্ধকারে কাটছে সময়। জ্বালানি না থাকায় গণপরিবহন চলাচল সীমিত, ট্যাক্সি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে এবং পেট্রোল পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে স্থানীয়দের।

ফরাসি পর্যটক ফ্রেডেরিক মনেট বলেন, তিনি মাত্র একটি ট্যাক্সি পেয়েছিলেন বলেই ভ্রমণ সংক্ষিপ্ত করে আবার হাভানায় ফিরে আসতে বাধ্য হন। তার আশঙ্কা ছিল, পরে আর কোনো যানবাহনই নাও পাওয়া যেতে পারে।

এএফপির হাতে আসা এক অভ্যন্তরীণ নথি অনুযায়ী, কম দখল এবং জ্বালানি রেশনিংয়ের কারণে প্রায় ৩০টি হোটেল ও রিসোর্ট সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অনেক আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাও নিয়মিত ফ্লাইট বাতিল করছে।

জানুয়ারি থেকে মার্কিন নৌবাহিনী ভেনেজুয়েলা থেকে কিউবায় আসা তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলোর চলাচলে বাধা দিচ্ছে। পাশাপাশি মেক্সিকোসহ কয়েকটি দেশকে শাস্তিমূলক শুল্কের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে জ্বালানি সরবরাহ আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।

এই পরিস্থিতিতে কিছু কানাডিয়ান ও রাশিয়ান বিমান সংস্থা আটকে পড়া যাত্রীদের দেশে ফেরাতে বিশেষ খালি বিমান পাঠাচ্ছে। মার্কিন পর্যটক লিয়াম বার্নেল জানান, তিনি আগেভাগেই বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে নিরাপদে দেশে ফেরার ব্যবস্থা করেছেন।

পর্যটন খাত কিউবার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার দ্বিতীয় প্রধান উৎস, চিকিৎসা খাতের আয়ের পরেই। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রায় তিন লাখ কিউবান সরাসরি বা পরোক্ষভাবে পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল এবং বর্তমান সংকটে তাদের জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে।

হাভানার জনপ্রিয় হপ অন হপ অফ বাসগুলো প্রায় খালি পড়ে আছে। রাস্তায় ক্লাসিক গাড়িগুলো যাত্রী খুঁজে পাচ্ছে না। স্থানীয় চালক জুয়ান আর্টেগা বলেন, জ্বালানি শেষ হয়ে গেলে তার কাজও বন্ধ হয়ে যায়, তখন বাধ্য হয়ে বাড়ি ফিরে যেতে হয়।

১৯৬২ সালে মার্কিন বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার পর থেকেই কিউবা নানা অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে খাদ্য ও ওষুধের ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

এদিকে মেক্সিকান নৌবাহিনী সম্প্রতি কিউবায় ৮০০ টনের বেশি মানবিক সহায়তা পাঠিয়েছে। এতে রয়েছে দুধ, মাংস, চাল, বিন ও বিভিন্ন স্বাস্থ্যসামগ্রী। তবুও বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে কিউবার পর্যটন খাত সামনে আরও কঠিন সময়ের মুখে পড়বে।