টানা বৃষ্টি, বন্যা এবং সাময়িক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার প্রভাব এখনো কাটেনি দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পাহাড়ি ভ্রমণগন্তব্য সাজেক ভ্যালিতে। গত ১৫ জুলাই থেকে পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হলেও এক সপ্তাহ পেরিয়ে যাওয়ার পরও রিসোর্ট, কটেজ ও দর্শনীয় স্থানগুলোতে পর্যটকের উপস্থিতি খুবই কম। একই চিত্র দেখা যাচ্ছে রাঙ্গামাটি শহরের কাপ্তাই হ্রদকেন্দ্রিক পর্যটন এলাকাগুলোতেও। এতে পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
সাজেক কটেজ ও রিসোর্ট মালিক সমিতি সূত্রে জানা গেছে, টানা ভারী বর্ষণে সাজেক সড়কের দুটি অংশ পানিতে তলিয়ে যায়। গত ৬ ও ৭ জুলাই প্রায় ৬০০ পর্যটক সেখানে আটকে পড়েন। পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় ৭ জুলাই সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসন সাজেকে ভ্রমণে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করে। পরিস্থিতির উন্নতি হলে ১৫ জুলাই সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়।
রুইলুই হলিডে রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী মিশু দে বলেন, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে আগের অনেক বুকিং বাতিল হয়েছে। অথচ বর্ষাকালই সাজেকে ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণীয় সময়। এ সময় পাহাড়জুড়ে মেঘের অপূর্ব সৌন্দর্য উপভোগ করতে পর্যটকেরা সাধারণত বেশি আগ্রহী থাকেন।
সাজেক হিল ভিউ রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী ইন্দ্র চাকমা জানান, সাজেক খুলে দেওয়া হলেও প্রতিদিন মাত্র ১০ থেকে ১৫টি গাড়ি যাতায়াত করছে। অনেক পর্যটক সকালে এসে বিকেলে খাগড়াছড়িতে ফিরে যাচ্ছেন। অনেকেই এখনো জানেন না যে সাজেকে ভ্রমণ আবার চালু হয়েছে।
সাজেক কটেজ ও রিসোর্ট মালিক সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা বলেন, সাজেকে ১১০টির বেশি রিসোর্ট ও কটেজ রয়েছে। ভারী বৃষ্টির মধ্যেও কোনো রিসোর্টে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তবে পর্যটক না থাকায় অধিকাংশ উদ্যোক্তা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকলে পর্যটকের সংখ্যা দ্রুত বাড়বে বলে তারা আশা করছেন।
শুধু সাজেক নয়, রাঙ্গামাটির অন্যতম আকর্ষণ ঝুলন্ত সেতুতেও দর্শনার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। টিকিট কাউন্টারের ইনচার্জ মো. সোহেল জানান, স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৮০০টি টিকিট বিক্রি হলেও বর্তমানে দিনে গড়ে ১০০টির বেশি বিক্রি হচ্ছে না।
রাঙ্গামাটি পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা বলেন, তাদের ৮৬ কক্ষের মোটেলে বর্তমানে বুকিং রয়েছে মাত্র ২ থেকে ৩ শতাংশ। বৃষ্টি, পাহাড়ধস ও বন্যার কারণে পর্যটকেরা এখনো পাহাড়মুখী হচ্ছেন না।
তবে কাপ্তাই হ্রদের তীরবর্তী কয়েকটি রিসোর্টে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি দেখা যাচ্ছে। রাঙ্গামাটি রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও বার্গী লেকভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুমেত চাকমা জানান, টানা বৃষ্টিতে প্রায় ৫০ শতাংশ বুকিং বাতিল হয়েছিল। বর্তমানে আবহাওয়া কিছুটা অনুকূলে থাকায় বুকিং বেড়ে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশে পৌঁছেছে।