সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য কাছ থেকে উপভোগ করতে স্নরকেলিং এখন বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় ভ্রমণ কার্যক্রম। প্রবালপ্রাচীর, রঙিন মাছ, সামুদ্রিক কচ্ছপ, মান্টা রে থেকে শুরু করে বিরল ডুগং দেখার সুযোগ রয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন গন্তব্যে। ভ্রমণবিষয়ক প্রতিষ্ঠান লোনলি প্ল্যানেট বিশ্বের সেরা ১০টি স্নরকেলিং গন্তব্যের তালিকা প্রকাশ করেছে, যেখানে স্থান পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, মিসরসহ বিভিন্ন দেশের জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা।

লোনলি প্ল্যানেটের তালিকায় অস্ট্রেলিয়ার গ্রেট ব্যারিয়ার রিফের লেডি এলিয়ট দ্বীপকে প্রবালপ্রাচীর ও মান্টা রে দেখার অন্যতম সেরা স্থান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সংরক্ষিত সামুদ্রিক অঞ্চলে অবস্থিত এই দ্বীপে সামুদ্রিক কচ্ছপ, ব্যারাকুডা, লেপার্ড হাঙর এবং জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত পরিযায়ী হাম্ব্যাক তিমিও দেখা যায়।

ব্রাজিলের আটলান্টিক মহাসাগরের দ্বীপপুঞ্জ ফার্নান্দো দে নরোনহা স্বচ্ছ ও উষ্ণ পানির জন্য পরিচিত। এখানে পানির নিচে প্রায় ৪০ মিটার পর্যন্ত দেখা যায়। পর্যটকেরা সামুদ্রিক কচ্ছপ, রে, লেমন হাঙর এবং বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ স্পিনার ডলফিনের আবাসস্থল দেখতে পারেন।

ফিলিপাইনের সেবুর মোয়ালবোয়াল এলাকায় প্রায় সারা বছরই সার্ডিন মাছের বিশাল ঝাঁক দেখা যায়। সৈকত থেকেই পানিতে নেমে সহজে এই অভিজ্ঞতা নেওয়া সম্ভব, যা নতুন স্নরকেলারদের কাছেও জনপ্রিয়।

ভারতের আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের হ্যাভলক দ্বীপের রাধানগর সৈকতও তালিকায় রয়েছে। স্বচ্ছ পানি ও বৈচিত্র্যময় সামুদ্রিক প্রাণীর পাশাপাশি এখানে নিরাপত্তার বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে কুমিরের উপস্থিতির কারণে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলতে বলা হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার রাজা আমপাটকে বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের অঞ্চল হিসেবে উল্লেখ করেছে লোনলি প্ল্যানেট। এখানে এক হাজারের বেশি প্রজাতির প্রবালপ্রাচীরের মাছ, শত শত প্রজাতির প্রবাল, সামুদ্রিক কচ্ছপ ও মান্টা রে দেখা যায়।

এ ছাড়া তালিকায় রয়েছে মালাউইর থাম্বি দ্বীপ, হাওয়াইয়ের হানাউমা উপসাগর, মোজাম্বিকের তোফো সৈকত, হন্ডুরাসের রোয়াতান দ্বীপ এবং মিসরের মার্সা আলমের আবু দাবাব উপসাগর। মিসরের এই উপসাগর বিরল সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী ডুগং দেখার জন্য বিশ্বের অন্যতম পরিচিত গন্তব্য।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

  • প্রকাশক: লোনলি প্ল্যানেট
  • তালিকাভুক্ত গন্তব্য: ১০টি
  • সর্বোচ্চ পানির দৃশ্যমানতা: ব্রাজিলের ফার্নান্দো দে নরোনহায় প্রায় ৪০ মিটার
  • বিশেষ আকর্ষণ: মান্টা রে, ডুগং, সামুদ্রিক কচ্ছপ, সার্ডিনের ঝাঁক, প্রবালপ্রাচীর