ইউরোপের সমুদ্রসৈকতে গেলেই বোঝা যায়, প্রতিটি দেশের মানুষের সৈকত সংস্কৃতি একেবারেই আলাদা। কোথাও সৈকত মানেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা পারিবারিক ভোজ, কোথাও আবার রোদ পোহানোই প্রধান আকর্ষণ।
ইউরোপের সৈকতে পাঁচটি দেশের পর্যটকরা কীভাবে সময় কাটান, তা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ।
ফ্রান্স: চুপচাপ, খেলাধুলা আর হালকা খাবার
ফ্রান্সের সৈকতগুলো তুলনামূলক শান্ত। আগে টপলেস হয়ে রোদ পোহানোর চল বেশি থাকলেও এখন তা অনেকটাই কমেছে। এখানে মানুষ সাধারণত পানি, এনার্জি ড্রিংক বা মাঝেমধ্যে ওয়াইন পান করেন। খাবারের মধ্যে ডোনাট, ক্যারামেল মাখানো বাদাম কিংবা স্থানীয় স্যান্ডউইচ জনপ্রিয়। অনেক সৈকতে ব্যক্তিমালিকানাধীন বিচ ক্লাব থাকলেও অধিকাংশ বালুচর সবার জন্য উন্মুক্ত। ধূমপান নিষিদ্ধ হওয়ায় জরিমানার ঝুঁকি রয়েছে। অবসরে অনেকে ভলিবল, ফ্রিসবি বা পেতাঙ্ক খেলেন।
স্পেন: পরিবার মিলে সারাদিনের আয়োজন
স্পেনে সৈকত ভ্রমণ মানেই বিশাল পারিবারিক অনুষ্ঠান। ভোর থেকেই ছাতা, চেয়ার, টেবিল, খাবার আর কুলার নিয়ে সৈকতে হাজির হন সবাই। একই পরিবারের কয়েক প্রজন্ম একসঙ্গে সময় কাটায়। সকালের কফি ও পেস্ট্রি দিয়ে শুরু হয়ে দুপুরে রান্না করা খাবার, বিকেলে আইসক্রিম আর সন্ধ্যা পর্যন্ত আড্ডা— সব মিলিয়ে সৈকতেই কেটে যায় পুরো দিন। শিশুরা খেলাধুলা করে, বড়রা রান্না ও গল্পে মেতে থাকেন।
ইতালি: রোদ পোহানো আর স্টাইলের প্রতিযোগিতা
ইতালিতে অনেক সৈকতই ব্যক্তিমালিকানাধীন বিচ ক্লাবের আওতায়। অনেক পরিবার বা দম্পতি পুরো মাসের জন্যই সানবেড ও ছাতা ভাড়া নেন। বেশির ভাগ মানুষ সকাল ১১টার আগে সৈকতে যান না, কারণ তখন রোদ সবচেয়ে উপভোগ্য হয়। স্টাইলিশ সাঁতারের পোশাক পরে রোদ পোহানো, অন্যদের দেখা এবং নিজেকে উপস্থাপন করাই যেন বড় আকর্ষণ। জনপ্রিয় খেলা বিচ টেনিস। দক্ষিণ ইতালির পরিবারগুলো আবার ঘর থেকে নানা পদ রান্না করে নিয়ে আসে। খাওয়ার পর অন্তত দুই ঘণ্টা সমুদ্রে নামা যাবে না— এ নিয়মও অনেক পরিবারে কঠোরভাবে মানা হয়।
জার্মানি: স্বাস্থ্যকর খাবার, শৃঙ্খলা আর আরাম
জার্মানির নিজস্ব সৈকতে মানুষ সাধারণত শান্ত পরিবেশে বিশ্রাম নিতে পছন্দ করেন। উইকার বিচ চেয়ার, ছাতা ও উইন্ডব্রেকার দিয়ে আরামদায়ক জায়গা তৈরি করেন তারা। শিশুদের জন্য থাকে গাজর, আপেল, শসা, ছোট প্রেটজেল, আর বড়দের জন্য জনপ্রিয় মাছের স্যান্ডউইচ। তবে বিদেশে বেড়াতে গেলে অনেক জার্মানকে তুলনামূলক বেশি প্রাণবন্ত দেখা যায়। সৈকতে তোয়ালে দিয়ে আগে থেকেই জায়গা দখল করার অভ্যাসও আছে তাদের।
যুক্তরাজ্য: খেলাধুলা, সঙ্গে ‘ফিশ অ্যান্ড চিপস’
ব্রিটিশদের সৈকত ভ্রমণ অনেকটাই পারিবারিক খেলাধুলাকে ঘিরে। ক্রিকেট, লং জাম্প, বালুর দুর্গ বানানো কিংবা জোয়ারের পানি দিয়ে খাল তৈরি— এসবই তাদের দিনের বড় আনন্দ। দুপুরে স্যান্ডউইচ খাওয়া, আর দিন শেষে ফিশ অ্যান্ড চিপস খাওয়া যেন এক ধরনের ঐতিহ্য। ঠান্ডা পানি, হঠাৎ বৃষ্টি কিংবা জোর বাতাসও তাদের সৈকত ভ্রমণের আনন্দে খুব একটা বাধা হয়ে দাঁড়ায় না।