ইতালির জনপ্রিয় কয়েকটি সৈকতে ভ্রমণের ক্ষেত্রে আগাম বুকিং বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অতিরিক্ত পর্যটকের চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষার লক্ষ্যে দেশটি এ উদ্যোগ নিয়েছে।

ইতোমধ্যে কিছু সৈকত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত বুক করা হয়ে গেছে বলে দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের খবরে বলা হয়েছে।

ইতালির জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে দেশটিতে পর্যটকের আগমন ৪ দশমিক ২ শতাংশ এবং রাত্রিযাপন ৭ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে।

বিশেষ করে ছোট ছোট উপসাগর ও নির্জন সৈকতগুলোতে জায়গা সীমিত হওয়ায় কর্তৃপক্ষ দর্শনার্থীর সংখ্যা নির্ধারণ করে দিয়েছে।

সার্ডিনিয়া দ্বীপের বিখ্যাত লা পেলোসা সৈকতে একজনের প্রবেশমূল্য ৩ দশমিক ৫ ইউরো। সর্বোচ্চ চারজনের জন্য একসঙ্গে বুকিং করা যায়। তবে বর্তমানে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সব বুকিং পূর্ণ।

মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিন মাত্র ১ হাজার ৫০০ জনকে এই সৈকতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। প্রবেশের জন্য আগাম বুকিং করে একটি কিউআর কোড সংগ্রহ করতে হয়।

ইতালির পরিবেশবাদী সংগঠন লেগাম্বিয়েন্তের পর্যটন কর্মকর্তা সেবাস্তিয়ানো ভেন্নেরি বলেন, বিশ্বজুড়ে পর্যটকের সংখ্যা ২০০০ সালের ১০০ কোটি থেকে ২০৩০ সালে ২০০ কোটিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এখনই ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

তার ভাষায়, "পর্যটকেরা তোয়ালের সঙ্গে বালু নিয়ে চলে যাওয়ার কারণেই সার্ডিনিয়ার লা পেলোসা সৈকত একসময় বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।"

সার্ডিনিয়ার পূর্ব উপকূলে ইউনেসকো-সুরক্ষিত কালা গোলোরিৎসে সৈকতেও মার্চ থেকে নভেম্বর পর্যন্ত আগাম বুকিং ছাড়া প্রবেশ করা যায় না। এখানে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২৫০ জন দর্শনার্থী প্রবেশ করতে পারেন। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রবেশমূল্য ৭ ইউরো।

এছাড়া কালা ব্রিগান্টিনা এবং সু সিরবোনি সৈকতেও প্রতিদিন যথাক্রমে ৬০ জন ও ৭৮৬ জন দর্শনার্থীর সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।