মধ্যপ্রাচ্যের পর্যটন মানচিত্রে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে মিসর। সরকারি বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিশ্বমানের পর্যটন প্রকল্পের সমন্বয়ে ২০২৫ সালে অঞ্চলটির দেশগুলোর মধ্যে পর্যটক প্রবৃদ্ধিতে শীর্ষ অবস্থান দখল করেছে উত্তর আফ্রিকার এ দেশটি।
জাতিসংঘের পর্যটন বিষয়ক সংস্থা ইউএন ট্যুরিজমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে মিসরে আন্তর্জাতিক পর্যটক ভ্রমণ বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ। আরব বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটিতে এ প্রবৃদ্ধিকে মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। দ্য ন্যাশনালের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
ইউএন ট্যুরিজমের ‘ওয়ার্ল্ড ট্যুরিজম ব্যারোমিটার’ অনুযায়ী, গত বছর মধ্যপ্রাচ্যে পর্যটক আগমনে দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে ছিল জর্ডান ও কাতার, যাদের প্রবৃদ্ধি যথাক্রমে ১২ ও ৪ শতাংশ। পাশাপাশি সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতও পর্যটন খাতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে। এসব দেশের সম্মিলিত সাফল্যের ফলে বৈশ্বিক পর্যটন পুনরুদ্ধারে মধ্যপ্রাচ্য অন্য অঞ্চলগুলোকে ছাড়িয়ে গেছে।
মিসরের সাফল্যের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে গ্র্যান্ড ইজিপশিয়ান মিউজিয়াম, ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব ইজিপশিয়ান সিভিলাইজেশন, লোহিত সাগর উপকূলের রিসোর্ট এবং ঐতিহাসিক পিরামিড ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো। এর ফলে ২০২৫ সালে দেশটির পর্যটন খাত থেকে আয় আগের বছরের তুলনায় ১৭ শতাংশ বেড়েছে।
২০২৫ সালে মিসর প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ পর্যটককে স্বাগত জানিয়েছে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ২১ শতাংশ বেশি। দেশটির পর্যটন ও প্রত্নতত্ত্ব মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, উন্নত আকাশপথ যোগাযোগ এবং চার্টার ফ্লাইটে ৩২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি পর্যটক বাড়াতে বড় ভূমিকা রেখেছে। বর্তমানে মিসরের জিডিপির প্রায় ১২ শতাংশ আসে পর্যটন খাত থেকে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০৩০ সালের মধ্যে তিন কোটি পর্যটক আকর্ষণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে কায়রো। ইউএন ট্যুরিজমের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৈশ্বিক অর্থনীতি স্থিতিশীল থাকলে ২০২৬ সালেও আন্তর্জাতিক পর্যটনে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি বজায় থাকবে। তবে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংঘাত এ খাতের জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি হিসেবে রয়ে গেছে।