আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জারি করা ৮২ ঘণ্টার ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার ফলে দেশের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা এখন কার্যত পর্যটকশূন্য। নির্বাচনি এলাকার বাইরে অবস্থান না করার নির্দেশনার কারণে সমুদ্র কন্যা খ্যাত কুয়াকাটায় হোটেল, রেস্টুরেন্ট এবং সমুদ্র সৈকতগুলোতে নীরবতা বিরাজ করছে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে। সোমবার ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম সকল জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও পুলিশ কমিশনারদের কাছে নির্দেশনা পাঠিয়েছেন।
নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও ভোটার ছাড়া অন্য কেউ ভোটগ্রহণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে ভোটগ্রহণ শেষের ২৪ ঘণ্টা পর পর্যন্ত নির্বাচনি এলাকায় অবস্থান করতে পারবে না। এই নিষেধাজ্ঞা ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
এই ঘোষণার পর কুয়াকাটায় পর্যটক আসা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয় হোটেল-মোটেল মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত সপ্তাহের মঙ্গলবার থেকে নতুন বুকিং বন্ধ রয়েছে।
শীত মৌসুমের এই সময়ে অধিকাংশ বুকিং বাতিল বা স্থগিত হয়েছে, ফলে হোটেলগুলো প্রায় খালি পড়ে আছে।
সিকদার রিসোর্ট অ্যান্ড বিলাসের এজিএম আল-আমিন উজ্জ্বল বলেন, "৮২ ঘণ্টার এই নিষেধাজ্ঞা আমাদের জন্য বড় ধাক্কা। শীতকাল পর্যটনের প্রধান সময়, কিন্তু রুমগুলো ফাঁকা পড়ে আছে।"
খান প্যালেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রাসেল খান জানান, "নির্বাচন জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, তবে দীর্ঘ সময়ের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ব্যবসার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলেছে।"
এছাড়া সৈকতনির্ভর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের ফটোগ্রাফার মো. আয়নাল ফকির বলেন, "পর্যটক না থাকায় আয় একেবারে বন্ধ।"
আশপাশের দোকানপাট ও রেস্টুরেন্টগুলোও প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে, অনেক ব্যবসায়ী আগেভাগেই ভোট দেওয়ার জন্য চলে গেছেন।
এদিকে ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান জানান, "নির্বাচনের কারণে কুয়াকাটায় পর্যটক নেই বললেই চলে, তবে নিরাপত্তা নিশ্চিতে আমরা প্রস্তুত আছি।"
হোটেল-মোটেল মালিক ও ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে এবং পর্যটকের আগমন বাড়বে। তবে দীর্ঘ সময়ের এই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা পর্যটন খাতে তাৎক্ষণিক যে ধাক্কা দিয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে সময় লাগবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।