ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির ফলে পর্যটন খাতেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলছে। এখন ঘরে বসেই বিশ্বের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখার সুযোগ মিলছে ভার্চুয়াল পর্যটনের মাধ্যমে। যদিও এটি বাস্তব ভ্রমণের বিকল্প নয়, তবে ভ্রমণ পরিকল্পনা, শিক্ষা এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে গন্তব্য সম্পর্কে বাস্তবসম্মত ধারণা নেওয়ার কার্যকর মাধ্যম হিসেবে এর ব্যবহার বাড়ছে।

এক সময় ভার্চুয়াল ভ্রমণ বলতে ৩৬০ ডিগ্রি ভিডিও বা স্থিরচিত্রভিত্তিক অভিজ্ঞতাকেই বোঝানো হতো। বর্তমানে উন্নত ত্রিমাত্রিক ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা মিশরের পিরামিডের ভেতর, টোকিওর ব্যস্ত সড়ক কিংবা আমাজনের অরণ্যের মতো স্থানগুলো অনেক বেশি বাস্তবসম্মতভাবে ঘুরে দেখার সুযোগ পাচ্ছেন।

কেন বাড়ছে ভার্চুয়াল পর্যটনের জনপ্রিয়তা

বিশ্বজুড়ে বিমানভাড়া, আবাসন ও অন্যান্য ভ্রমণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই বিকল্প অভিজ্ঞতার দিকে ঝুঁকছেন। একটি ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি হেডসেট ব্যবহার করেই বিভিন্ন গন্তব্য সম্পর্কে ধারণা নেওয়া সম্ভব হওয়ায় এ প্রযুক্তির জনপ্রিয়তা বাড়ছে।

পরিবেশগত দিক থেকেও বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। দূরপাল্লার বিমান ভ্রমণ বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে ভূমিকা রাখে। ফলে পরিবেশ সচেতন কিছু ভ্রমণপ্রেমী সীমিত পরিসরে ভার্চুয়াল অভিজ্ঞতাকে বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করছেন।

এ ছাড়া প্রবীণ, বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তি কিংবা আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে দূরবর্তী গন্তব্যে যেতে না পারা মানুষের জন্যও ভার্চুয়াল পর্যটন নতুন সুযোগ তৈরি করছে। আন্টার্কটিকা, মাচু পিচু বা অন্যান্য দুর্গম স্থানের অভিজ্ঞতা তারা ঘরে বসেই নিতে পারছেন।

বাস্তব ভ্রমণের বিকল্প নয়

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভার্চুয়াল প্রযুক্তি দৃশ্যমান অভিজ্ঞতা দিতে সক্ষম হলেও বাস্তব ভ্রমণের মানবিক ও ইন্দ্রিয়গত অনুভূতির বিকল্প হতে পারে না। কোনো শহরের খাবারের স্বাদ, স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয়, মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ কিংবা নতুন পরিবেশে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেওয়ার অভিজ্ঞতা এখনো প্রযুক্তির মাধ্যমে পুরোপুরি পুনর্নির্মাণ সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে ভার্চুয়াল পর্যটনও সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব নয়। উন্নত মানের ত্রিমাত্রিক তথ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং ক্লাউডভিত্তিক সেবা পরিচালনার জন্য বড় আকারের ডেটা সেন্টারে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়, যা পরোক্ষভাবে পরিবেশের ওপর প্রভাব ফেলে।

পর্যটনের ভবিষ্যৎ হতে পারে হাইব্রিড

পর্যটন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে ভার্চুয়াল ও বাস্তব ভ্রমণের সমন্বয়ে একটি 'হাইব্রিড পর্যটন' ব্যবস্থা আরও জনপ্রিয় হবে। ভ্রমণকারীরা টিকিট বুকিংয়ের আগে ভার্চুয়ালভাবে গন্তব্য ঘুরে দেখে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। একই সঙ্গে সংরক্ষিত বা ঝুঁকিপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থানে, যেখানে সাধারণ দর্শনার্থীর প্রবেশ সীমিত, সেখানে ভার্চুয়াল প্রবেশাধিকার পর্যটন ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।