বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের জন্য কেপ ভার্দে ভ্রমণ নিয়ে বিভ্রান্তির অবকাশ নেই। আন্তর্জাতিক পাসপোর্ট সূচকে দেশটির নাম ভিসামুক্ত গন্তব্য হিসেবে উল্লেখ থাকলেও কেপ ভার্দের সর্বশেষ সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বাংলাদেশি নাগরিকদের দেশটিতে প্রবেশের আগে অবশ্যই ভিসা নিতে হবে। তাই ভ্রমণের পরিকল্পনা করার আগে সরকারি ভিসানীতি যাচাই করা জরুরি।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক নাগরিকত্ববিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৬তম। সূচকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা আগাম ভিসা ছাড়াই ৩৬টি গন্তব্যে ভ্রমণ করতে পারেন। সেই তালিকায় আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দের নামও রয়েছে।

তবে কেপ ভার্দের সরকারি অভিবাসন কর্তৃপক্ষের তথ্য ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৯১টি দেশের নাগরিকদের কেপ ভার্দেতে প্রবেশ, ট্রানজিট অথবা বিমানবন্দরে যাত্রাবিরতির আগে বাধ্যতামূলকভাবে ভিসা নিতে হবে। ভিসা ছাড়া পৌঁছালে প্রবেশ বা ট্রানজিটের অনুমতি নাও মিলতে পারে।

সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ভিসার জন্য আবেদনকারীদের নিজ দেশের নিকটতম কেপ ভার্দের দূতাবাসে যোগাযোগ করতে হবে। তবে বাংলাদেশে কেপ ভার্দের কোনো দূতাবাস নেই। ফলে বাংলাদেশি নাগরিকদের সাধারণত তৃতীয় কোনো দেশে অবস্থিত কেপ ভার্দের দূতাবাস থেকে ভিসা সংগ্রহ করতে হয়।

ভ্রমণ বিশেষজ্ঞদের মতে, হেনলি পাসপোর্ট সূচক আন্তর্জাতিক ভ্রমণসংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসূত্র হলেও বিভিন্ন দেশের ভিসানীতির পরিবর্তন সেখানে হালনাগাদ হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। তাই বিদেশ ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি অভিবাসন কর্তৃপক্ষ বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করাই সবচেয়ে নিরাপদ।

২০২৪ সালে কেপ ভার্দে ভ্রমণের জন্য ভিসা নিয়েছিলেন বাংলাদেশি পর্যটক কাজী আসমা আজমেরী। তিনি সেনেগালে অবস্থানকালে সেখানকার কেপ ভার্দের দূতাবাস থেকে ছয় মাস মেয়াদি ভিসা সংগ্রহ করেছিলেন। তবে মালিতে জ্বালানিসংকটের কারণে একাধিক ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তার ভ্রমণ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়নি।

আটলান্টিক মহাসাগরে আফ্রিকার পশ্চিম উপকূলের কাছে অবস্থিত আগ্নেয় দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে গঠিত কেপ ভার্দে সমুদ্রসৈকত, আগ্নেয়গিরি, ক্রেওল সংস্কৃতি ও সংগীতের জন্য পরিচিত। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনায় আসায় দেশটি পর্যটকদের কাছেও আগ্রহের গন্তব্য হয়ে উঠছে।

বাংলাদেশ থেকে কেপ ভার্দেতে সরাসরি বিমান চলাচল নেই। সাধারণত ইথিওপিয়ার আদ্দিস আবাবা হয়ে সেনেগাল অথবা ইউরোপের বিভিন্ন দেশের মাধ্যমে ট্রানজিট নিয়ে দেশটিতে পৌঁছানো যায়।

কেপ ভার্দে ভ্রমণে যা জানা জরুরি

  • বাংলাদেশিদের জন্য আগাম ভিসা বাধ্যতামূলক।
  • ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন নির্দেশনা কার্যকর।
  • বাংলাদেশে কেপ ভার্দের দূতাবাস নেই।
  • ভিসার জন্য নিকটতম বিদেশি দূতাবাসে আবেদন করতে হয়।
  • ভ্রমণের আগে সরকারি ভিসানীতি অবশ্যই যাচাই করুন।