বান্দরবানের দুর্গম অমিয়াখুম ভ্রমণে গিয়ে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে পাঁচ দিন আটকা পড়েছিলেন ঢাকার চার পর্যটক। নদীপথ অচল, পাহাড়ধস এবং ঝিরিতে প্রবল স্রোতের কারণে ফেরার পথ বন্ধ হয়ে গেলে প্রায় ৪৮ ঘণ্টার উদ্ধার অভিযানে বিকল্প পাহাড়ি পথ পেরিয়ে তাদের নিরাপদে থানচিতে ফিরিয়ে এনেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

রোববার (১২ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিজিবি এ তথ্য জানিয়েছে।

উদ্ধার হওয়া পর্যটকরা হলেন ঢাকার শ্যামপুরের মাহাদি আল মাহবুব এবং সূত্রাপুরের মারুফ উদ্দিন, আবু হুরায়রা জাদিম ও তামিম রায়হান সৌরভ। তামিম ঢাকার নটরডেম কলেজের শিক্ষার্থী। মাহাদি, মারুফ ও জাদিম চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন।

বিজিবি জানায়, গত ৪ জুলাই থানচি উপজেলার দুর্গম পর্যটনকেন্দ্র অমিয়াখুম ভ্রমণের উদ্দেশ্যে থুইসাপাড়ায় যান চার পর্যটক। ৭ জুলাই থেকে টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও বৈরী আবহাওয়ায় নদীপথ অচল হয়ে পড়লে তারা সেখানে আটকা পড়েন।

খবর পাওয়ার পর বিজিবির বলিপাড়া ব্যাটালিয়নের (৩৮ বিজিবি) জিন্নাপাড়া ক্যাম্প থেকে একটি দল থুইসাপাড়ায় যায়। তবে আবহাওয়া প্রতিকূল থাকায় নদীপথে থানচিতে ফেরা সম্ভব হয়নি।

১১ জুলাই বিজিবি চার পর্যটককে নিয়ে বিকল্প পাহাড়ি পথে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। থুইসাপাড়া থেকে পায়ে হেঁটে জিন্নাপাড়া, হালিরামপাড়া ও নিকোলাসপাড়া হয়ে দুর্গম ঝিরি ও পাহাড়ি পথ পেরিয়ে দলটি অংসাউপাড়ায় পৌঁছায়।

সেখানে বিজিবির তত্ত্বাবধানে পর্যটকদের রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা করা হয়। পাহাড়ধস, ঝিরিতে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি, প্রবল স্রোত ও দিনব্যাপী বৃষ্টির কারণে সেদিন সীমান্ত সড়কে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

পরদিন রোববার অংসাউপাড়া বিজিবি ক্যাম্প থেকে আরেকটি দল পর্যটকদের সঙ্গে নিয়ে প্রায় চার ঘণ্টা পায়ে হেঁটে নেপিউপাড়া বিওপিতে পৌঁছায়। পরে বিজিবির যানবাহনে তাদের নিরাপদে থানচিতে ফিরিয়ে আনা হয়।

বিজিবির বান্দরবান সেক্টর কমান্ডার কর্নেল রুবায়াত জামিল বলেন, দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে পর্যটক ও স্থানীয় মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও বিজিবির অন্যতম দায়িত্ব। দুর্যোগ, দুর্ঘটনা ও জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও কার্যকর সহায়তা দিতে বিজিবি প্রস্তুত।

উদ্ধার হওয়া পর্যটকরা জানান, থুইসাপাড়ায় আটকা পড়ার পর বিজিবি তাদের নিরাপত্তা, থাকা-খাওয়া এবং সার্বক্ষণিক সহযোগিতা নিশ্চিত করেছে। দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি পথ পেরিয়ে নিরাপদে থানচিতে ফিরিয়ে আনায় তারা উদ্ধারকারী বিজিবি সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

ভ্রমণ সতর্কতা: বর্ষায় থানচি ও অমিয়াখুমের মতো দুর্গম পাহাড়ি গন্তব্যে ভারী বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও ঝিরির স্রোতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এ সময় ভ্রমণের আগে স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা ও আবহাওয়ার পরিস্থিতি যাচাই করা জরুরি।