প্রিয় শিল্পীর কনসার্ট দেখতে এক শহর বা দেশ থেকে অন্য গন্তব্যে ছুটে যাওয়ার প্রবণতা এখন বিশ্ব পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে। কনসার্টের টিকিটকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিত এই ভ্রমণে দর্শকেরা শুধু গান শোনেন না, ঘুরে দেখেন নতুন শহর, স্থানীয় সংস্কৃতি ও দর্শনীয় স্থান। আর এই বাড়তি পর্যটক প্রবাহ হোটেল, রেস্তোরাঁ, বিমান ও স্থানীয় ব্যবসায় উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলছে।
ভ্রমণের এই ধরন পরিচিত কনসার্ট ট্যুরিজম নামে। সহজভাবে বললে, প্রিয় শিল্পীর কনসার্ট যেখানে ও যেদিন অনুষ্ঠিত হবে, সেই অনুযায়ী সেখানে ভ্রমণ করে কনসার্ট উপভোগের পাশাপাশি গন্তব্যটি ঘুরে দেখাই কনসার্ট ট্যুরিজম।
আগে অনেক পর্যটক কোনো শহর ঘুরতে গিয়ে সুযোগ পেলে কনসার্ট দেখতেন। এখন পরিকল্পনাটা অনেকের ক্ষেত্রে উল্টো। আগে কনসার্টের টিকিট, তারপর বিমান ও হোটেল বুকিং। ফলে একজন ব্যক্তি একই সঙ্গে ভক্ত এবং পর্যটক হয়ে উঠছেন।
ভক্ত যখন পর্যটক
কনসার্ট পর্যটকের ভ্রমণসূচিতে সাধারণ দর্শনীয় স্থানের পাশাপাশি যোগ হয় কনসার্ট ভেন্যু, পপ-আপ স্টোর, শিল্পী বা গানের সঙ্গে সম্পর্কিত স্থান, ভক্তদের আয়োজন ও বিশেষ প্রদর্শনী। অনেকেই আবার একই সফরে একাধিক শহরে কনসার্ট দেখতে যান।
এর বড় উদাহরণ টেইলর সুইফটের ‘দ্য ইরাস ট্যুর’। ২০২৩ সালে শুরু হয়ে ২০২৪ সালে শেষ হওয়া এই সফরে পাঁচ মহাদেশে ১৪৯টি কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ভক্তরা কনসার্ট দেখতে নতুন নতুন শহর ও দেশে ভ্রমণ করেন।
কনসার্টে বদলে যায় শহরের অর্থনীতি
বড় কনসার্ট আয়োজন একটি শহরে পর্যটকদের ব্যয় বাড়িয়ে দেয়। কনসার্টের টিকিটের বাইরে দর্শকেরা হোটেলে থাকা, খাবার, স্থানীয় পরিবহন, কেনাকাটা ও দর্শনীয় স্থান ভ্রমণে অর্থ ব্যয় করেন। এতে পর্যটননির্ভর বিভিন্ন খাত লাভবান হয়।
টেইলর সুইফটের ‘দ্য ইরাস ট্যুর’-এর টিকিট বিক্রি থেকে আয় হয়েছে দুই বিলিয়ন ডলারের বেশি। কোয়েশ্চেন প্রোর একটি গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে উত্তর আমেরিকায় এই সফরকে ঘিরে দর্শকদের ভোক্তা ব্যয় ছিল প্রায় ৫ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার।
যুক্তরাষ্ট্রের ফোর্বস ম্যাগাজিন জানিয়েছিল, সফরের শেষ তিনটি শোকে কেন্দ্র করে কানাডার ভ্যাঙ্কুভারের অর্থনীতিতে প্রায় ১৫৭ মিলিয়ন ডলারের প্রভাব পড়েছে।
কনসার্টের পর শহর আবিষ্কার
কনসার্ট শেষ হওয়ার পর অনেক দর্শক বেরিয়ে পড়েন শহরের দর্শনীয় স্থান, ইতিহাস ও সংস্কৃতি জানতে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে পড়ায় গন্তব্যটির পরিচিতিও বাড়ে এবং অন্য ভ্রমণকারীদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি হয়।
পর্যটন খাতের জন্য তাই বড় সাংস্কৃতিক আয়োজন এখন শুধু বিনোদন নয়, নতুন পর্যটক আকর্ষণ ও স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করার একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবেও গুরুত্ব পাচ্ছে।