চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র গুলিয়াখালী সমুদ্রসৈকতে গোসল করতে নেমে ভেসে যাওয়া চার পর্যটককে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উদ্ধার করেছেন দুই গ্রাম পুলিশ সদস্য। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, একটি লাইফবোটের সহায়তায় উত্তাল ঢেউয়ের মধ্যে থেকে চার পর্যটককে নিরাপদে তীরে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।

জানা গেছে, ঘটনাটি গত সোমবার ঘটলেও উদ্ধার অভিযানের ভিডিও বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। তবে উদ্ধার হওয়া চার পর্যটকের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, সমুদ্রের গভীরে চলে যাওয়া চার পর্যটককে উদ্ধার করতে লাইফবোট নিয়ে এগিয়ে যান দুই গ্রাম পুলিশ সদস্য। পরে তাদের নিরাপদে তীরে ফিরিয়ে আনা হয়।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। রবিন হোসেন নামে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লেখেন, উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া গ্রাম পুলিশ সদস্যরা প্রশংসার দাবিদার। পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অন্যদিকে এস্কান্দর হোসেন নামে আরেকজন মন্তব্য করেন, সমুদ্র উত্তাল থাকা সত্ত্বেও অনেক পর্যটক সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে পানিতে নেমে যান, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

উদ্ধারকারী গ্রাম পুলিশ সদস্য নুরুল আমিন জানান, সোমবার সকাল থেকে পাঁচজন গ্রাম পুলিশ সৈকতে দায়িত্ব পালন করছিলেন। বেলা পৌনে ১১টার দিকে জোয়ারের সময় বিপুলসংখ্যক পর্যটক সমুদ্রে নামেন। একপর্যায়ে চারজন পর্যটক নির্ধারিত নিরাপদ সীমার বাইরে চলে যান।

তিনি বলেন, দূর থেকে তাদের অবস্থা দেখে বোঝা যাচ্ছিল যে তারা আর নিজেরা তীরে ফিরতে পারবেন না। সমুদ্র তখন বেশ উত্তাল ছিল এবং তারা ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে সহকর্মী সফর আলীকে সঙ্গে নিয়ে সৈকতে থাকা একটি লাইফবোটের সাহায্যে তাদের উদ্ধার করা হয়।

নুরুল আমিন আরও বলেন, স্থানীয় হওয়ায় সমুদ্রের আচরণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা সম্পর্কে তাদের ধারণা রয়েছে। দায়িত্ব পালনকালে পর্যটকদের নিয়মিত সতর্ক করা হয়। অনেক সময় বাঁশি বাজিয়ে কিংবা কঠোরভাবে নির্দেশ দিয়েও তাদের নিরাপদ স্থানে ফিরিয়ে আনতে হয়।

সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পরপরই সৈকতের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লাল পতাকা টানানো এবং সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সৈকতের বিভিন্ন স্থানে লাল পতাকা ও সতর্কবার্তাসংবলিত সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্বপ্রাপ্ত গ্রাম পুলিশ সদস্যদের আরও সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৩ মে একই সৈকতে গোসল করতে নেমে ভেসে যান মুহাম্মদ রিফাত হোসেন (১৮) নামে এক তরুণ। প্রায় ১৭ ঘণ্টা পর স্থানীয়রা তার মরদেহ উদ্ধার করেন। সেই ঘটনার পরও পর্যটকদের অসচেতনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন স্থানীয়রা।