ঈদের দীর্ঘ ছুটিকে ঘিরে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র ভোলাগঞ্জ সাদাপাথরে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের সঙ্গে ছুটি কাটাতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হাজারো দর্শনার্থী ছুটে এসেছেন এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমিতে। স্বচ্ছ জলরাশি, সাদা পাথরের বিস্তীর্ণ প্রান্তর এবং দূরে মেঘালয়ের সবুজ পাহাড়ের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য পর্যটকদের আকৃষ্ট করেছে।

ঈদের ছুটির পুরো সময়জুড়েই সাদাপাথর এলাকায় ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের পদচারণায় সরগরম ছিল ধলাই নদীর তীর ও সাদাপাথরের বিভিন্ন অংশ। অনেকে নৌকায় চড়ে নদীপথে ঘুরে বেড়িয়েছেন, আবার কেউ পাথরের ওপর দিয়ে হেঁটে কিংবা পানিতে নেমে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করেছেন।

ভোলাগঞ্জের ধলাই নদীতে পর্যটকবাহী নৌকার ব্যস্ততা ছিল চোখে পড়ার মতো। নদীর এক পাড় থেকে অন্য পাড়ে যেতে ছোট নৌকার ব্যবহার করেছেন দর্শনার্থীরা। সাদাপাথরের মূল এলাকায় পৌঁছাতে কিছুটা পথ হেঁটে যেতে হলেও তাতে উৎসাহে ভাটা পড়েনি কারও।

পর্যটকদের অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে দিনভর আনন্দ-উল্লাসে মেতেছেন। কেউ স্বচ্ছ পানিতে নেমে সময় কাটিয়েছেন, কেউবা পাথরের ওপর বয়ে চলা পানির স্রোতের মধ্যে ছবি তুলেছেন। উৎসমুখসংলগ্ন এলাকাতেও ছিল মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য সাদাপাথর দীর্ঘদিন ধরেই পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় গন্তব্য হিসেবে পরিচিত। বর্ষা ও শুষ্ক মৌসুমে ভিন্ন ভিন্ন রূপে ধরা দেওয়া এ স্থানটি সিলেটের পর্যটন শিল্পের অন্যতম আকর্ষণ। ঈদ, পূজা কিংবা অন্যান্য সরকারি ছুটিতে এখানে দর্শনার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

স্থানীয়দের মতে, পর্যটকের আগমন বৃদ্ধির ফলে নৌকা চালক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও স্থানীয় সেবাখাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের আয়ও বৃদ্ধি পায়। ফলে ঈদের ছুটি শুধু ভ্রমণপিপাসুদের আনন্দই বাড়ায় না, স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের টানে এবারের ঈদেও ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর পরিণত হয়েছে পর্যটকদের প্রাণচঞ্চল মিলনমেলায়।