বসন্তের আগমনে পর্তুগালের রাজধানী লিসবন যেন রঙে-রূপে নতুন এক শহরে রূপ নিয়েছে। শহরের রাস্তা, চত্বর ও পাহাড়ি গলিতে এখন চোখে পড়ে উজ্জ্বল গোলাপি ফুলের সমারোহ। জুডাস ট্রি নামে পরিচিত এই গাছের ফুলে সেজে উঠেছে পুরো নগর, যা স্থানীয়দের পাশাপাশি পর্যটকদেরও দৃষ্টি কাড়ছে।

লিসবনের ঐতিহ্যবাহী হলুদ ট্রামলাইন ঘেঁষে, পুরোনো স্থাপত্যের সামনে কিংবা ছোট ছোট স্কোয়ারে, সর্বত্রই দেখা যাচ্ছে এই ফুলের আধিক্য। স্থানীয়দের মতে, চলতি বছর জুডাস ট্রির ফুল ফোটার পরিমাণ গত বছরের তুলনায় বেশি। ফলে শহরের সৌন্দর্য আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।

ইউরোপজুড়ে ‘ইউরোপিয়ান রেডবাড’ নামে পরিচিত এই গাছ শুধু নান্দনিকতার জন্যই বিখ্যাত নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইতিহাস ও সংস্কৃতির ছোঁয়াও। ইউরোপীয় লোককথায় প্রচলিত আছে, বাইবেলের চরিত্র জুডাসের নামানুসারেই এই গাছের নামকরণ। যদিও এ তথ্য কিংবদন্তিভিত্তিক, তবু শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই গাছ ইউরোপীয় সংস্কৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ স্থান ধরে রেখেছে।

পরিবেশগত দিক থেকেও জুডাস ট্রি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বসন্তের শুরুতে যখন অনেক গাছে ফুল কম থাকে, তখন এই গাছ মৌমাছি ও অন্যান্য পরাগায়নকারী পোকামাকড়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য উৎস হিসেবে কাজ করে। ফলে জীববৈচিত্র্য রক্ষায়ও এর অবদান উল্লেখযোগ্য।

এদিকে লিসবনের এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। হলুদ ট্রামের পাশে গোলাপি ফুলের সারি এখন ফটোগ্রাফারদের অন্যতম পছন্দের বিষয়। বিশেষ করে ভোর কিংবা বিকেলের আলোতে ফুলের রং আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে, যা ছবিতে আলাদা মাত্রা যোগ করে।

এই আকর্ষণীয় দৃশ্য দেখতে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে পর্যটকদের আগমনও বাড়ছে। অনেক ভ্রমণপ্রেমী এখন লিসবনকে বসন্তকালীন ভ্রমণের অন্যতম সেরা গন্তব্য হিসেবে বিবেচনা করছেন। স্থানীয় পর্যটন খাতও এতে নতুন গতি পাচ্ছে।