দীর্ঘ পাঁচ মাস ২১ দিন পর আবারও কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে উত্তোলন করা হয়েছে লাল পতাকা। বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল সাগরের কারণে মঙ্গলবার দুপুরের পর সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে ‘বিপদ সংকেত’ হিসেবে লাল পতাকা টানানো হয়। এতে পর্যটকদের সাগরে নামতে নিরুৎসাহিত করছেন লাইফগার্ডরা।
মঙ্গলবার বিকেলে কলাতলী, লাবণী ও সুগন্ধা পয়েন্ট ঘুরে সৈকতে লাল সতর্কতা পতাকা দেখা গেছে। এর আগে গত বছরের ৭ নভেম্বর দীর্ঘ সময় পর সৈকতে লাল-হলুদ পতাকা চালু করা হয়েছিল, যা তুলনামূলক নিরাপদ পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছিল।
লাবণী পয়েন্টের সিনিয়র লাইফগার্ড মোহাম্মদ শুক্কুর জানান, দুপুর পর্যন্ত সাগরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল। তবে হঠাৎ আবহাওয়ার অবনতি ঘটে এবং সাগর উত্তাল হয়ে ওঠে। এরপরই পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে লাল পতাকা উত্তোলন করা হয়।
সি সেফ লাইফগার্ড ফিল্ড টিম ম্যানেজার ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, বর্ষাকাল ও বৈরী আবহাওয়ায় সাগরে বালুচর ও গভীর চ্যানেল তৈরি হয়, যা স্নানকারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি পর্যটকদের নির্ধারিত নিরাপদ জোন ছাড়া সাগরে না নামার আহ্বান জানান।
খারাপ আবহাওয়ার প্রভাব পড়েছে পর্যটক উপস্থিতিতেও। সকাল পর্যন্ত সৈকতে ভিড় থাকলেও দুপুরের পর বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া বাড়ায় অনেকেই সৈকত ছাড়তে শুরু করেন।
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক রাশেদ মাহমুদ বলেন, সকালে আবহাওয়া ভালো থাকলেও বিকেলে হঠাৎ বৃষ্টি ও বাতাস বেড়ে যায়। লাল পতাকা দেখে আর সাগরে নামেননি তিনি।
চট্টগ্রাম থেকে আসা সুমাইয়া আক্তার বলেন, মূলত সাগরে গোসলের জন্য এলেও লাল পতাকা দেখে ঝুঁকি নিতে চাননি।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজার জেলায় ৩১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। দুপুরের পর থেকে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদণ্ডী এলাকায় বজ্রপাতে এক লবণচাষির মৃত্যু হয়েছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সহকারী আবহাওয়াবিদ আবদুল হান্নান জানিয়েছেন, আগামী চার দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও আশপাশের এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্য বিরাজ করায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, পায়রা ও মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
লাইফগার্ডরা জানিয়েছেন, সকাল থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত তারা দায়িত্ব পালন করছেন। তবে বৈরী আবহাওয়ায় সাগরের তীব্র স্রোত ও বড় ঢেউয়ের কারণে ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। এ অবস্থায় পর্যটকদের সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।