দেশজুড়ে তাপদাহের মধ্যে স্বস্তির বার্তা নিয়ে আসছে বৃষ্টি। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আজ ও আগামীকাল দেশের সব বিভাগেই দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যা সাময়িকভাবে তাপমাত্রা কমিয়ে স্বস্তি দিতে পারে।
শনিবার সকাল ৯টা থেকে প্রকাশিত নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া, বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক জানিয়েছেন, ২৮ ও ২৯ মার্চ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির প্রবণতা থাকবে। শুরুতে বিক্ষিপ্তভাবে কিছু এলাকায় বৃষ্টি হলেও বিকাল বা সন্ধ্যার পর তা বিস্তৃত হয়ে দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে। একই পরিস্থিতি আগামীকালও বজায় থাকতে পারে।
তিনি আরও বলেন, এই সময়ে বৃষ্টির সঙ্গে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া থাকতে পারে, যা চলতি মৌসুমের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। তবে এটি পূর্ণাঙ্গ কালবৈশাখী না হলেও আংশিক ঝড়ো আবহাওয়া তৈরি করতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বর্তমানে লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। পাশাপাশি মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় রয়েছে। এই দুই ব্যবস্থার প্রভাবে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়ছে।
আগামী ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে সাম্প্রতিক গরমের তীব্রতা কিছুটা প্রশমিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়া পর্যালোচনায় দেখা যায়, দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা যশোরে ৩৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা সিলেটে ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।
একই সময়ে দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে দিনাজপুরে, ৪১ মিলিমিটার। এছাড়া রংপুরে ৪০, নীলফামারীর ডিমলায় ৩২, কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ২৯ এবং কিশোরগঞ্জের নিকলীতে ১৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত নথিবদ্ধ হয়েছে।
আবহাওয়া সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই বৃষ্টিপাত কৃষি, জনজীবন ও চলাচলে কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে দমকা হাওয়া ও বজ্রপাতের সময় সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।