মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে শুষ্ক মৌসুম ও রমজান মাসে পর্যটক কমে যাওয়ায় বানরসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী খাদ্যসংকটে পড়েছে। বিশেষ করে মূল ফটকের আশপাশে অবস্থান করা বানরের দল খাবারের আশায় পর্যটকদের দিকে তাকিয়ে সময় কাটাচ্ছে।
সম্প্রতি উদ্যান ঘুরে দেখা যায়, টিকিট কাউন্টারের টিনের চালের ওপর কয়েকটি বানর মলিন মুখে বসে আছে। সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অল্পসংখ্যক পর্যটকের দিকে তারা তাকিয়ে থাকলেও খাবার পাচ্ছে না। রমজান মাস হওয়ায় অনেক দর্শনার্থী খাবার সঙ্গে আনছেন না। এতে বানরের দলটি নিরাশ হয়ে ফটকের আশপাশেই ঘোরাফেরা করছে।
বনকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই বানরের দলটি সাধারণত পর্যটকদের কাছ থেকে কলা ও অন্যান্য খাবার পেয়ে থাকে। তবে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পর্যটক কমে যাওয়ায় তাদের খাদ্যসংকট তীব্র হয়েছে। ফলে প্রাণীগুলোকে অনেক সময় না খেয়েই থাকতে হচ্ছে।
স্থানীয় পর্যটক হাবিবুল্লাহ সিদ্দিক বলেন, রমজানে বনের পরিবেশ শান্ত ও নীরব থাকলেও প্রাণীদের জন্য এটি কষ্টের সময়। বানরের দল তার দিকে তাকিয়ে থাকলেও তাদের দেওয়ার মতো খাবার তার কাছে ছিল না।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, পরিস্থিতি সাময়িক। ঈদুল ফিতরের ছুটিতে পর্যটকের সংখ্যা বাড়লে প্রাণীগুলো আবার খাবার পাবে। একই সঙ্গে বৃষ্টি শুরু হলে বনজ গাছে নতুন পাতা ও ফল ধরবে, যা বন্যপ্রাণীর খাদ্যসংকট অনেকটাই কমিয়ে দেবে।
বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মোহাম্মদ কাজী নাজমুল হক জানান, লাউয়াছড়ার ফটকের আশপাশে থাকা বানরের দল পর্যটকের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। তবে সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে নতুন লতাপাতা গজাতে শুরু করেছে এবং বিভিন্ন গাছে মুকুল এসেছে। কিছুদিনের মধ্যেই প্রাকৃতিক খাবারের উৎস বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে ঘোষিত লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে প্রায় ৪৬০ প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণী রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিপুলসংখ্যক পাখি, সরীসৃপ ও স্তন্যপায়ী প্রাণী। এই জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখতে প্রাকৃতিক খাদ্যচক্র সচল রাখা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।