দীর্ঘদিন ধরে হারিয়ে যেতে বসা গ্রামীণ প্রকৃতির এক পরিচিত বৃক্ষ আবারও দেখা মিলল উপকূলের জনপদে। মহেশখালীর ধলঘাটা এলাকায় সন্ধান পাওয়া গেছে বিরল হয়ে পড়া মন্দার গাছের, যা স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে কৌতূহল ও আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একসময় কক্সবাজার অঞ্চলের গ্রামাঞ্চলে মন্দার গাছ ছিল বেশ পরিচিত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বসতি বিস্তার, পরিবেশগত পরিবর্তন ও অবহেলার কারণে গাছটি ক্রমে দুষ্প্রাপ্য হয়ে পড়ে। সম্প্রতি ধলঘাটা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে একটি পূর্ণবয়স্ক গাছ নজরে এলে বিষয়টি আলোচনায় আসে।
মন্দার একটি কাঁটাযুক্ত, পত্রঝরা এবং মাঝারি আকৃতির বৃক্ষ। সাধারণত উচ্চতা প্রায় পনের মিটার পর্যন্ত হতে পারে। বসন্ত মৌসুমে গাছজুড়ে ফুটে ওঠে গাঢ় লাল রঙের দৃষ্টিনন্দন ফুল, যা দূর থেকেই চোখে পড়ে। বীজ কিংবা ডাল রোপণের মাধ্যমে সহজেই এর বংশবিস্তার সম্ভব।
উদ্ভিদবিদদের মতে, লোকজ চিকিৎসায় মন্দার গাছের বিভিন্ন অংশের ব্যবহার রয়েছে। বিশেষ করে এর শিকড় রক্তচাপ ও বহুমূত্র রোগ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক বলে প্রচলিত বিশ্বাস আছে। বাংলাদেশে মন্দারের একাধিক প্রজাতি দেখা যায়, যার মধ্যে ‘পানিয়া মন্দার’ নামে পরিচিত একটি জাত কাঁটাযুক্ত।
ধারণা করা হয়, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর সাহিত্যকর্মে যে ‘পারিজাত’ উল্লেখ করেছেন, তা মন্দারের একটি প্রজাতির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দেশীয় বৃক্ষ সংরক্ষণ জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হলে প্রায় হারিয়ে যাওয়া এই গাছ আবারও গ্রামীণ প্রকৃতিতে ফিরে আসতে পারে বলে তারা আশা করছেন।