রংপুর জেলার বদরগঞ্জ পৌরসভার উপকণ্ঠে অবস্থিত ১১ দশমিক ৫৯ একর আয়তনের এই জলাভূমি চার বছর আগে পুনঃখননের মাধ্যমে নতুন রূপ পায়। জলাধারের তীর ঘেঁষে বিরল প্রজাতির কাঠ, ফল, ঔষধি ও ফুলগাছের ছয় হাজার পাঁচশোর বেশি চারা রোপণ করা হয়েছে। বর্তমানে এখানে ২১৩ প্রজাতির উদ্ভিদের সমাহার এক প্রাকৃতিক উদ্যানের আবহ তৈরি করেছে।
সবুজে ঘেরা এই বিল এখন দেশীয় ও পরিযায়ী পাখির নিরাপদ আশ্রয়স্থল। খঞ্জনা, মৌটুসী, চাতক, সরালি, পানকৌড়ি, মাছরাঙা, দোয়েলসহ অসংখ্য পাখির উপস্থিতিতে এলাকা মুখর থাকে সারাবছর। পাশাপাশি ছোট মাছ, জলজ উদ্ভিদ, সরীসৃপ ও নানা প্রাণীর বিচরণে সমৃদ্ধ হয়েছে জীববৈচিত্র্য।
দর্শনার্থীদের মতে, বিলটি পুনঃখননের ফলে হারিয়ে যেতে বসা পরিবেশগত ভারসাম্য আবারও ফিরে এসেছে। অনেকে এটিকে প্রকৃতিনির্ভর শিক্ষার ক্ষেত্র হিসেবেও দেখছেন, যেখানে শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা জীববৈচিত্র্য সরাসরি পর্যবেক্ষণের সুযোগ পাচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জানান, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও ভূ-উপরিস্থ পানির সঠিক ব্যবহারের উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই পুনঃখনন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এর ফলে সেচ সুবিধা বাড়ার পাশাপাশি পরিবেশও পুনরুদ্ধার হয়েছে।
পরিবেশবিদদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় দেশের অন্যান্য বিলুপ্তপ্রায় জলাশয়েও এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া গেলে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।