বাংলার কলম্বাস ডেস্ক

পবিত্র রমজান মাসের প্রশান্ত পরিবেশে কক্সবাজার উপকূলের জনজীবনে নেমে এসেছে এক ভিন্ন আবহ। বিকেলের পর ধীরে ধীরে স্তিমিত হয়ে যায় কোলাহল, কমে মানুষের চলাচল। আর এই নীরবতার সুযোগে প্রকৃতি যেন ফিরে পাচ্ছে তার নিজস্ব ছন্দ।

এ দৃশ্য স্পষ্ট হয়ে উঠছে কক্সবাজার জেলার উপকূলীয় গ্রাম পেচার দ্বীপ-এ। সূর্য পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্রামটির আকাশ ভরে ওঠে নানা প্রজাতির পাখির ওড়াউড়িতে। দলবদ্ধভাবে ঘুরে তারা বসে গাছের ডালে, আর তাদের ডাক মিশে যায় সন্ধ্যার নরম আলোয়।

স্থানীয় তরুণ পারভেজ জানান, বছরের অন্য সময়ের তুলনায় রমজানে গ্রাম অনেক শান্ত থাকে। মানুষের অপ্রয়োজনীয় চলাচল কমে যাওয়ায় পাখিরা আগের আবাসস্থলে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যে ফিরে আসে।

বিশেষ করে সাদা বক, শালিক ও চড়ুই নদীতীর এবং উপকূলীয় ঝাউবনে সূর্যাস্তের আগে ও পরে বেশি দেখা যাচ্ছে। এসব দৃশ্য এখন প্রায় প্রতিদিনের নিয়মিত চিত্র।

গ্রামের বাসিন্দা আবদুল হাকিম বলেন, রমজানে মানুষ ইবাদত, সংযম ও আত্মচিন্তায় বেশি সময় ব্যয় করে। ফলে শব্দদূষণ কমে যায়। এতে পরিবেশও হয়ে ওঠে কোমল ও শান্ত। পাখির ডাক তখন আরও স্পষ্ট শোনা যায়।

রহিমা বেগমের মতে, আগে এত পাখির সমাগম দেখা যেত না। এখন ইফতারের আগে শিশুরা উঠানে দাঁড়িয়ে আকাশভরা পাখি দেখে আনন্দ পায়। এটি তাদের কাছে এক নতুন অভিজ্ঞতা।

পরিবেশ পর্যবেক্ষকদের মতে, মানুষের কর্মকাণ্ড কমলে প্রকৃতি খুব দ্রুত নিজের ভারসাম্য ফিরে পায়। রমজানের এই সাময়িক পরিবর্তন তারই বাস্তব উদাহরণ।